শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের ইলামবাজার ব্লকের জয়দেব কেন্দুলি অঞ্চলের রামপুর গ্রামে আজও স্বমহিমায় পুজীতা হন আচার্য পরিবারের আরাধ্যদেবী শ্যামা মা। পরিবারের এক সদস্যের কথায় অন্তত হাজার বছরের প্রাচীন এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৩৩ পুরুষের গভীর নিষ্ঠা, ভক্তি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। প্রতিবছর কালীপুজো উপলক্ষে চার দিন ধরে মন্দির প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় এই শ্যামা পূজা।
একসময় তালপাতার ছাউনি দেওয়া মাটির ঘরে মাটির প্রতিমায় মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল। পরিবারের আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি ভিক্ষালব্ধ অর্থে আয়োজিত হতো এই পুজো। পরবর্তীতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে মাটির প্রতিমার বদলে প্রতিষ্ঠিত হয় শিলা মূর্তি। সময়ের বিবর্তনে এবং পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই মাটির ঘর আজ রূপ নিয়েছে সুসজ্জিত বিশাল কংক্রিটের মন্দিরে।
কালীপুজো উপলক্ষে রঙিন আলোকসজ্জায় নতুন সাজে সেজে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর। এই চার দিন ধরে চলে বিশেষ পূজার্চনা, ধর্মীয় প্রথা, বলিদান এবং প্রভূত নরনারায়ণ সেবা। বলির মাংস মায়ের বিশেষ ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়। প্রতিদিনের নিত্যসেবা, দুপুর ও সন্ধ্যার আরতির পাশাপাশি উৎসবের এই দিনগুলোতে গ্রামবাসী ও পরিবার-পরিজনদের সমাগমে মুখরিত হয় চারিপাশ। আধুনিকতার ছোয়ায় মন্দিরের রূপ বদলালেও ঐতিহ্য ও আবেগ আঁকড়ে আজও অমলিন আচার্য পরিবারের অটুট ভক্তি।

