সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে সদস্যদের পদত্যাগ ও অনাস্থা ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতও ফের বিজেপির দখলে এল।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে খয়রাশোল ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে একমাত্র লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি ৮টি, তৃণমূল কংগ্রেস ৪টি এবং তৃণমূল-বিক্ষুব্ধ তথা নির্দল প্রার্থীরা ২টি আসনে জয়ী হন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিজেপি বোর্ড গঠন করে। কিন্তু পরবর্তীতে বিজেপির প্রধান-সহ এক সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে চলে যাওয়ায় পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ডের ক্ষমতা দখল করে।
রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর বিজেপির ছয় সদস্য স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। অনাস্থা প্রস্তাবের কয়েকদিন পর পঞ্চায়েত প্রধান রূপা গোপ পদত্যাগ করেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচনের জন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেমন্ত ভান্ডারী প্রধান পদের জন্য তাপসী নন্দীর নাম প্রস্তাব করেন এবং গীতা দাস তা সমর্থন করেন। পরে তাপসী নন্দী সর্বসম্মতিক্রমে নতুন প্রধান নির্বাচিত হন।
প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়। নির্বাচনের সময় বিজেপির ছয় সদস্যের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সদস্য এবং তৃণমূলের প্রতীক না পাওয়া দুই নির্দল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নবনির্বাচিত প্রধান তাপসী নন্দী প্রধানের চেয়ারে বসার পর তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুকুমার নন্দী ও যুব মোর্চার আহ্বায়ক নৃপেন্দ্রনাথ সৌ বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে খয়রাশোল ব্লকের ১০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে একমাত্র লোকপুর পঞ্চায়েতেই বিজেপি প্রধান গঠন করেছিল। পরবর্তীতে নানা প্রলোভন ও চাপের কারণে আমাদের প্রধান-সহ এক সদস্য দল পরিবর্তন করেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর লোকপুর পঞ্চায়েত ফের বিজেপির দখলে এসেছে। নতুনভাবে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।”
