সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
কৌশিকী অমাবস্যার ঠিক আগে তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য বড়সড় উদ্যোগ নিল বীরভূম জেলা প্রশাসন। মন্দির দর্শনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই নতুন পরিষেবা শুরু হয়েছে তারাপীঠ মন্দিরে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সীমিত কিছু সুবিধা নিয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভক্তরা অনলাইনে পেমেন্ট করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের স্লট বুকিং করতে পারবেন। ফলে মন্দির দর্শনের ক্ষেত্রে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সময়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং দর্শনার্থীদের পরিষেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর তারাপীঠে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। সেই সময় ভিড় সামলানো এবং দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে মন্দির দর্শনের সুযোগ করে দেওয়া প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই কথা মাথায় রেখেই এই অনলাইন বুকিং ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিন প্রথমে মা তারার পুজো দিয়ে এই অনলাইন অ্যাপ্সের শুভ উদ্বোধন করেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক শ্রী রাথোর অশ্বিন বাবুসিংহ, রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কমল তেজা, তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় সহ প্রশাসনের বিশিষ্ট আধিকারিক ও তারাপীঠ মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী দিনে পরিষেবাটিকে আরও বিস্তৃত ও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফলভাবে এই ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে তারাপীঠে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি মন্দির দর্শন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।


