সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
শিল্প, সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার মেলবন্ধনে দুবরাজপুরের পাহাড়েশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল সেঁজুতির পঞ্চম বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘অনন্ত–অন্ত–রঙ্গ’। ১০ অক্টোবর, শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য, নাটক এবং মননশীল আলোচনার মধ্য দিয়ে এক অন্য মাত্রা পায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। দেবীপক্ষের আবহে শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ। পাহাড়েশ্বর বাবার মন্দিরে মঙ্গলদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব উদয় মুখোপাধ্যায়, পান্নালাল ভট্টাচার্য, অনিন্দ্য আচার্য ও সুরভি বক্সি। উদ্বোধনী সংগীত ‘বাজলো তোমার আলোর বেণু’-র সুরে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন ভাস্বতি, মনীষা, অনন্যা, রুমা, তানিয়া, ঋত্বিকা, নন্দীতা ও রিসিকা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল ‘নতুন প্রজন্ম ও থিয়েটার—তরুণরা মঞ্চ থেকে কি দূরে সরে যাচ্ছে?’ শীর্ষক সেমিনার। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে নাট্যচর্চার সম্পর্ক, মঞ্চনাটকের প্রতি তাঁদের আগ্রহ এবং ভবিষ্যতে থিয়েটারের সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনায় উঠে আসে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আলোচনায় অংশ নেন বর্ধমানের ‘প্রয়াস’-এর নাট্যব্যক্তিত্ব উদয় শংকর মুখোপাধ্যায় এবং সাঁইথিয়ার ‘ওয়েক আপ নাট্যদল’-এর পান্নালাল ভট্টাচার্য। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন তীর্থজিৎ ঘোষ। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শকদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তিনটি একাঙ্ক নাটকের মঞ্চায়ন। সেঁজুতির প্রযোজনায় ‘বেঁচে থাকার ঘ্রাণ’, সাঁইথিয়া ওয়েক আপ নাট্যদলের ‘প্রশ্ন?’ এবং বীরভূম অ্যাম্ফিথিয়েটারওয়ালার ‘ম্যায় নরক সে বোল রহা হুঁ!’—এই তিনটি নাটক পৃথক ভাবনা ও নাট্যভাষার মধ্য দিয়ে দর্শকদের সামনে তুলে ধরে বিভিন্ন জীবনবোধ ও সামাজিক প্রশ্ন। নাটকগুলির পরিবেশনা সন্ধ্যাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
সব মিলিয়ে সেঁজুতির পঞ্চম বর্ষের এই আয়োজন কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নাট্যচর্চাকে ঘিরে মতবিনিময়, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং শিল্পের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সংযোগ স্থাপনের এক সুন্দর পরিসর তৈরি করেছে এই উদ্যোগ। সেঁজুতির ‘অনন্ত–অন্ত–রঙ্গ’-এর মূল বার্তা—শিল্প ও সংস্কৃতির হাত ধরে মানুষের মনের সঙ্গে মনের মিলন ঘটানো এবং আগামী প্রজন্মের কাছে নাট্যচর্চার গুরুত্ব ও ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়া। একান্ত সাক্ষাৎকারে কথাগুলো ব্যক্ত করেন সেঁজুতির কর্নধার সুমনা চক্রবর্তী।পাহাড়েশ্বরের ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সেই বার্তাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল বলে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের অভিমত।

