শাল নদীর ভাঙনে গ্রাসের মুখে গ্রামের মূল রাস্তা, আতঙ্কে কমলপুরবাসী, পঞ্চায়েতের সামান্য সহায়তা ও গ্রামবাসীদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ-মাটি দিয়ে অস্থায়ী মেরামতি

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

নদীর ধারে বসবাস মানেই বর্ষাকালে পাড়ভাঙনের আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে বীরভূমের খয়রাসোল ব্লকের লোকপুর থানার সন্নিকটে শাল নদীর তীরে অবস্থিত পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস সম্পন্ন কমলপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে এবার গ্রামের একমাত্র মূল রাস্তাটিও নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে।
সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টির জেরে গ্রাম থেকে বাইরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তার উপর থাকা কালভার্টের পাশের মাটি ধসে পড়ে। ফলে গ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, কালভার্টটি ভেঙে পড়লে গ্রামের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়ে সমস্যার কথা জানান। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সামান্য সহায়তা মেলে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের খুঁটি ও ইটভাটার ছাইমাটি ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত করা হয়েছে। তবে এই জোড়াতালি যে স্থায়ী সমাধান নয়, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সকলেই।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই শাল নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে নদীর জল গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনার খুব কাছে চলে এসেছে। রিভার পাম্প হাউস, প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং গ্রামের একমাত্র মূল রাস্তা—সবকিছুই এখন নদীভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উদ্দীপ পাল, সনৎ ডোম, গণেশ আঢ্য প্রমুখের বক্তব্য, নদীর পাড় রক্ষায় পাথর বাঁধাই বা স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ মনসুর আলীও নদীভাঙন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, বিদ্যালয়ের প্রাচীর না থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নদীর ক্রমশ এগিয়ে আসা এবং পাড়ভাঙন অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ও ভবিষ্যতে বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কমলপুরবাসীদের এখন একটাই দাবি—অস্থায়ী জোড়াতালি নয়, শাল নদীর পাড় রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন। তা না হলে আগামী দিনে গ্রামের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *