টুলু মণ্ডলের একাধিক ডেরায় পুলিশি তল্লাশি, ফাইলবোঝাই গাড়ি আটক; তদন্তে নতুন মোড়

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

বীরভূমের মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার টুলু মণ্ডলের একাধিক ঠিকানায় ব্যাপক তল্লাশি চালাল পুলিশ। বৃহস্পতিবার মহম্মদবাজার ও সিউড়ি থানার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে টুলু মণ্ডলের বাড়ি, বাগানবাড়ি এবং তাঁর ম্যানেজার কাওসার মোল্লার বাড়িতে একযোগে অভিযান চালায়। এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত টানা অভিযানে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয় এবং সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান।এই ঘটনায় মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।


বৃহস্পতিবার তল্লাশি চলাকালীন সিউড়ির জীবধরপুর এলাকার একটি ফার্মহাউস থেকে বোলেরো গাড়িতে বিপুল পরিমাণ ফাইল ও নথি নিয়ে বের হচ্ছিল কয়েকজন ব্যক্তি। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গাড়িটি আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের টুলু মণ্ডলের সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেন। তাঁদের দাবি, টুলু মণ্ডল ফোন করে ওই নথিপত্র অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, তা পরে ফোনে জানানো হবে বলেও তাঁদের জানানো হয়েছিল বলে পুলিশকে জানান তাঁরা। এরপরই গাড়িসহ সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।


এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলার বা প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হচ্ছিল কি না। যদিও এ বিষয়ে এখনও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা বাজেয়াপ্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।
মিনার মণ্ডলের পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ ও সোনার সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের বক্তব্য, প্রায় এক বছর আগে টুলু মণ্ডল কিছু আলমারি তাঁদের বাড়িতে রেখে যান এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে বলেই জানিয়েছিলেন। আলমারির চাবিও টুলু মণ্ডলের কাছেই ছিল বলে দাবি পরিবারের। মিনারের স্ত্রীর আরও দাবি, তাঁদের সংসার স্বামীর পেনশনের টাকাতেই চলে এবং ওই নগদ অর্থ বা সোনার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না। পুলিশের অনুমান, ২৩ জুলাইয়ের পর থেকেই টুলু মণ্ডল গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ অর্থ, সোনা এবং বাজেয়াপ্ত নথির সূত্র ধরে আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়েও তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে। বাজেয়াপ্ত নথিপত্র এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে প্রশাসনসহ জেলার সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *