সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে অনাস্থা পত্র তৃণমূলের ৯ সদস্যের, পরদিনই পদত্যাগ রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

দলীয় কোন্দল এবার প্রকাশ্যে এল বীরভূমের রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতিতেও। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূল কংগ্রেসেরই ৯ জন সদস্য। সোমবার সিউড়ি সদর মহকুমা শাসকের কাছে ৯ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। আর তার পরদিনই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন নিবেদিতা সাহা।
রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট ১৫টি আসন। এর মধ্যে ১৪টি তৃণমূল কংগ্রেসের এবং একটি আসন বিজেপির দখলে। ফলে তৃণমূলেরই ৯ সদস্য সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুকুমার আচার্য (শোভন) অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতিতে অচলাবস্থা চলছে। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত সমিতির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং উন্নয়নমূলক কাজও কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ৪ মে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়মিত অফিসে আসছেন না। এর ফলে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজ আটকে রয়েছে।
রাজনগর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সহ-সভাপতি রানা প্রতাপ রায়ও সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, “পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিজের সিদ্ধান্তে চলেন না, অন্যের পরামর্শে চলেন। সমিতির অন্যান্য সদস্যদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয় না।”
অন্যদিকে, রাজনগর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুকুমার সাধুর বিরুদ্ধেও নিয়মিত পঞ্চায়েত সমিতিতে না আসার অভিযোগ উঠেছে।
অনাস্থা প্রস্তাব আনা তৃণমূল সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শোভন আচার্য, চিত্রলেখা রায়, সন্ধ্যা রায়, নূরেতাজ খাতুন, মহকী মুর্মু-সহ আরও কয়েকজন। তাঁদের দাবি, বর্তমান বোর্ডের পরিবর্তে নতুনভাবে পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনার ব্যবস্থা করা হোক। তাতে রাজনগর এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ গতি পাবে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধেও সম্প্রতি তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্যদের একাংশ অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। যদিও অনাস্থা বৈঠকের আগেই সভাধিপতি পদত্যাগ করেন। এবার রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরদিনই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন নিবেদিতা সাহা। তিনি এদিন সিউড়ি সদর মহকুমা শাসকের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
ফলে অনাস্থা প্রস্তাবের বৈঠকের আগেই সভাপতির পদত্যাগে আপাতত সেই প্রক্রিয়ার আর প্রয়োজন থাকল না। এখন রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির নতুন সভাপতি হিসেবে কে দায়িত্ব পান, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *