সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিসহ একাধিক ইস্যুতে সোমবার সিউড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করল বীরভূম জেলা কংগ্রেস। কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধীর নির্দেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সিউড়িতেও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে কংগ্রেসের মিছিল জেলা শাসকের দফতরের সামনে পৌঁছায়। সেখানে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে বলে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি।
কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁদের একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। সেই বিষয়গুলিই স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী, প্রাক্তন বিধায়ক মিল্টন রসিদ, সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি আব্দুল নাঈম-সহ জেলা কংগ্রেসের অন্যান্য নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জেলা শাসকের দফতর চত্বরে সাময়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে, এদিনের কর্মসূচির মাঝেই বীরভূমের রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তাও শোনা যায় জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীর মুখে। বোলপুরে গুলিতে নিহত বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লার পরিবারের পাশে দলীয় ভাবে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য রবিবার সন্ধ্যায় বোলপুরে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লার। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই পরিস্থিতিতে সঞ্জয় অধিকারী জানান, চন্দন ভল্লা যে দলেরই কর্মী বা নেতা হন না কেন, তিনি তাঁর বাড়িতে যাবেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। আমরা চাই পুলিশ খুনিদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এই মানবিক অবস্থানকে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে সৌজন্যের নজির হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

