সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পশুহাট। এর ফলে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন পশুপালক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পশুহাটকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করা বহু মানুষ। গ্রামীণ অর্থনীতির স্বার্থে অবিলম্বে পশুহাট পুনরায় চালুর দাবিতে বুধবার রাজনগর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) কাছে ডেপুটেশন দিল সারা বাংলা পশুপাখি হাটবাজার বাঁচাও সমিতি।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মহম্মদ শফিউল হক জানান, রাজনগরে পশুহাট পুনরায় চালুর দাবিতেই এদিন বিডিওর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় চার থেকে ছয় মাস ধরে হাট বন্ধ থাকায় পশু ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামীণ মানুষ চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছেন। পশুহাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত বহু মানুষের সাপ্তাহিক রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে তাঁদের সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
শফিউল হকের কথায়, গ্রামীণ মানুষ চাইছেন, পুনরায় পশুহাট চালু হোক। কিন্তু কিছু প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কারণে হয়তো তা সম্ভব হচ্ছে না। সংগঠনের দাবি, পশুহাট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি দিতে হবে। পাশাপাশি, গরু-বাছুর নিয়ে রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতে কোনও বাধার সম্মুখীন হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু হাট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করি। বাকি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে। সাধারণ মানুষের সাপ্তাহিক রুটি-রুজির নিশ্চয়তা ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই ডেপুটেশন।”
সংগঠনের দাবি, পশুহাট শুধুমাত্র গরু-ছাগল কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পশু কেনাবেচার পাশাপাশি হাটকে ঘিরে বিভিন্ন ছোটখাটো ব্যবসা গড়ে ওঠে। সেখানে নানা সামগ্রী বিক্রি করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে দীর্ঘদিন হাট বন্ধ থাকায় পশুপালক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাটকেন্দ্রিক অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষও।
এদিকে, ডেপুটেশন গ্রহণ করে রাজনগরের বিডিও আশ্বাস দিয়েছেন, কালীপুজোর পর জেলাস্তরে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনিও সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা বাংলা পশুপাখি হাটবাজার বাঁচাও সমিতির অধীনে রাজ্যের ১৭টি জেলায় প্রায় ১৫০টি পশুহাট বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বীরভূম জেলাতেই বন্ধ রয়েছে ১১টি হাট। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পশুহাট চালুর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে বলে আশাবাদী সংগঠনের সদস্যরা।
এদিনের ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মহম্মদ শফিউল হক, খায়রুজ্জামান খান, রাকিম মহম্মদ, নাজমুল আলম খান, দাবির হোসেন খাঁ, খুরশীদ রব্বানী-সহ অন্যান্য সদস্যরা।
