শিক্ষকদের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদ বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

নবনিযুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না বলে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতিবাদ জানাল বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। এই ঘোষণাকে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির বীরভূম জেলা শাখার পক্ষ থেকে। পাশাপাশি, আগামী দিনে এই বিধিনিষেধ কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সমিতি।

বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বক্তব্য, শিক্ষকরা সমাজের সচেতন ও অগ্রগামী অংশ। রাজনীতি সামাজিক, অর্থনৈতিক-সহ জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করে। সেই ক্ষেত্রে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তার অধিকারী শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে, রাজনীতির ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা সংকুচিত হবে। এর ফলে রাজনীতির গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

শিক্ষকদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শিক্ষক বেণীমাধব দাস এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। শিক্ষার পাশাপাশি স্বাধীনতার গুরুত্বের কথা স্মরণ করানো হয়। বিদ্যাসাগর ও স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের ব্রিটিশ শিক্ষানীতির সমালোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরে সমিতি।

এ বিষয়ে এক প্রেস বিবৃতিতে বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা অবিলম্বে শিক্ষকদের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদ করছি এবং এই ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

শিক্ষকদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সংগঠনের এই প্রতিবাদ এবং দাবি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *