দ্বিতীয়বারেও সদস্যদের অনুপস্থিতিতে হলো না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন ঘিরে ফের তৈরি হল জটিলতা। নির্ধারিত দিনে সদস্য-সদস্যাদের অনুপস্থিতির কারণে দ্বিতীয়বারের মতো মুলতবি হয়ে গেল সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া। ফলে সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদ শূন্য থাকায় কার্যত অচলাবস্থা কাটল না রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতিতে।

জানা গেছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে পদাধিকারীদের পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন সভাপতি নিবেদিতা সাহা পদত্যাগ করেন। এরপর সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর সভাপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময় থাকলেও এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিরোধী দলনেতা অনুপ গরাই ছাড়া পঞ্চায়েত সমিতির কোনও সদস্য-সদস্যাকে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। নির্বাচনকে ঘিরে ব্লক অফিস সংলগ্ন নির্ধারিত এলাকার মধ্যে রাজনগর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সকাল দশটার পর থেকেই সভাপতি কে হবেন, তা জানতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও তৃণমূল সদস্য উপস্থিত না হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া ফের মুলতবি হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন সভাপতি নিবেদিতা সাহার বিরুদ্ধে তাঁর দলেরই ৯ জন সদস্য-সদস্যা অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। পরদিন, ২৫ আগস্ট তিনি এসডিওর চেম্বারে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পরিমল সাহাও এসডিওর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তারপর থেকেই সভাপতি ও সহ-সভাপতি—দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদই শূন্য রয়েছে।

প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে মহকুমা শাসকের পক্ষ থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেদিনও বিরোধী দলনেতা অনুপ গরাই ছাড়া অন্য কোনও সদস্য উপস্থিত না থাকায় নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় সভাপতি নির্বাচনের দিন ঘোষিত হলেও হলেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়।

রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা অনুপ গরাই বলেন, “বর্তমানে সভাপতি ও সহ-সভাপতি—দুটি পদই খালি। পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতির যে কাজগুলি রয়েছে, সেগুলি সভাপতির অনুমোদন ছাড়া হয় না। ফলে সেগুলি আটকে রয়েছে। কেবল বিডিও সাহেবের অধীনে যে কাজগুলি করা সম্ভব, সেগুলিই হচ্ছে। এর ফলে মানুষের উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, পঞ্চায়েত সমিতিকে দ্রুত সচল করা এবং সাধারণ মানুষের কাজ যাতে আটকে না থাকে, সেই দাবিতে বিডিও, এসডিও এবং জেলা শাসকের কাছে তাঁরা আবেদন জানাবেন।

দ্বিতীয়বারও সভাপতি নির্বাচন না হওয়ায় রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *