ই-কেওয়াইসি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টোপে OTP হাতিয়ে প্রতারণা! খয়রাশোলে সাইবার জালিয়াতি চক্রের হদিস, গ্রেফতার ৬

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী খয়রাশোল থানা এলাকায় ফের সাইবার জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল পুলিশ। সন্দেহজনকভাবে বৈঠক করার সময় একটি চারচাকা গাড়ি থেকে ছয়জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে তাদের যোগসূত্রের তথ্য পাওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খয়রাশোল থানার ময়নাডাল গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন সংলগ্ন এলাকায় একটি চারচাকা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে স্থানীয় এক যুবক-সহ বহিরাগত পাঁচ যুবককে বৈঠক করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। খবর পৌঁছয় খয়রাশোল থানার ওসি উৎপল কুমার দাসের কাছে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ছয়জনকেই আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে সাইবার জালিয়াতি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের। এরপর একটি চারচাকা গাড়ি এবং সাতটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। ধৃতদের থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বুধবার ধৃতদের দুবরাজপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক বিচারক তদন্তের স্বার্থে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ই-কেওয়াইসি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, গ্যাসের টাকা পাইয়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ওটিপি সংগ্রহ করে প্রতারণা করা হত বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণার টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে এই চক্রের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া ও মুড়াবেড়িয়া এলাকার যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে। ধৃতদের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের বাগডহরী থানার মুড়াবেড়িয়া গ্রামের দু’জন এবং সুদ্রাক্ষীপুর গ্রামের একজন রয়েছেন। এছাড়া লোকপুর থানার শিবপুর গ্রামের দু’জন এবং খয়রাশোল থানার ময়নাডাল গ্রামের একজন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

বীরভূম জেলা পুলিশের সহযোগিতায় এবং খয়রাশোল থানার ওসি উৎপল কুমার দাসের নেতৃত্বে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলছে। থানার দুই এসআই অমূল্য মণ্ডল ও আসিফ রাইহান বিশ্বাস সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর থানার অন্যান্য পুলিশকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সচেতনতা অভিযান ও ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি খয়রাশোল থানায় সাইবার জালিয়াতি সংক্রান্ত ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলাগুলির তদন্তে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

এরই মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর খয়রাশোল থানা চত্বরে জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১৬টি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় দুই ব্যক্তির খোয়া যাওয়া মোট ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়। ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী হওয়ায় খয়রাশোল-সহ জেলার কয়েকটি থানা এলাকায় সাইবার অপরাধের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ সাধারণ মানুষকে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ওটিপি বা গোপন তথ্য শেয়ার না করা, অজানা অ্যাপ ডাউনলোড বা লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য কাউকে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। সাইবার অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে মোবাইল ও টাকা উদ্ধারের ঘটনায় খয়রাশোল থানার পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন জেলা পুলিশ সুপারও।

তবে খয়রাশোলের ময়নাডাল গ্রামের এক যুবকের সূত্র ধরে বাকি পাঁচজনের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় সীমান্তবর্তী অন্যান্য এলাকায় সক্রিয় সাইবার জালিয়াতি চক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্ত এগোলে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *