শম্ভুনাথ সেনঃ
আজ ২৯ আগষ্ট মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বীরভূম জেলা সফর করলেন শুভেন্দু অধিকারী। জেলায় পৌঁছানোর পরেই তিনি সোজা চলে যান মহাশক্তিপীঠ তারাপীঠে, সেখানে মা তারার চরণে পুজো দিয়ে রাজ্যবাসীর কল্যাণ কামনা করেন। বীরভূমের মাটিতে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের দুই মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দুধকুমার মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক, বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক এবং জেলা সমাহর্তা সহ শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তারাপীঠে পুজো নিবেদন শেষে রামপুরহাটের ‘রক্তকরবী’ মঞ্চে বীরভূম জেলা প্রশাসনের পরিচালনায় এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কদের। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়, অসিত মাল এবং বিধায়ক কাজল শেখ ও বিধান মাজি প্রমুখ।

বৈঠক শেষে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর তন্ত্রক্ষেত্র তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ও উৎসবের শোভা বাড়াতে আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তারাপীঠের বেশ কিছু হোটেল সুরক্ষার দিক থেকে বিপজ্জনক ও ‘জতুগৃহ’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় কড়া বার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সেখানে একটি বৃহৎ ট্যুরিস্ট লজ গড়ে তোলার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে জেলার প্রতিটি রাস্তা মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিডিও-দের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক এই সভা থেকে জেলা পুলিশের প্রশংসাও শোনা যায়। ব্যক্তিগত হেফাজত থেকে ২২০ কোটি টাকা উদ্ধার এবং ২৫২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই বা ইডি-র থেকেও চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া, সিউড়ি মেডিকেল কলেজ এবং দেউচা-পাঁচামি কয়লা খনি প্রকল্প নিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষেই এক বড় বার্তা আসতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। দেউচা-পাঁচামি প্রকল্পের নানা অনিয়ম নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি তিনি শীঘ্রই বীরচন্দ্রপুরে উপস্থিত হবেন বলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশা প্রকাশ করেন।
