শম্ভুনাথ সেনঃ
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে যেখানে বহু প্রাচীন রীতিনীতি হারিয়ে যেতে বসেছে, বীরভূমের ইলামবাজার ব্লকের ঘুড়িষা গ্রামের নারকেল বাড়ির ব্যানার্জি পরিবার সেখানে আজও ধরে রেখেছে তাঁদের তিন শতাব্দীরও বেশি পুরনো অমলিন ঐতিহ্য। বংশপরম্পরায় নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে উদযাপিত এই পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর আত্মনির্ভরশীলতা। এখানে কোনো বহিরাগত অনুদান নেওয়া হয় না; পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের আর্থিক সহযোগিতায় সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে থাকেন।
এই প্রাচীন পুজোর আচার-অনুষ্ঠানেও রয়েছে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য। এখানে কোনো পশুবলির প্রচলন নেই, বরং পূর্বপুরুষদের রীতি মেনে মহাষ্টমীর দিন শুধুমাত্র চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। ব্যয়সংকোচ ও ঐতিহ্য বজায় রাখতে প্রতি বছর নতুন প্রতিমা গড়ার বদলে এখানে শতাব্দীপ্রাচীন পাষাণমূর্তিতে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়, যার পাশেই নিয়মিত পূজিত হন ভগবান নারায়ণের শীলা মূর্তি।
দুর্গাপুজোর এই চার দিন ঘুড়িষার নারকেল বাড়ি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। কর্মসূত্রে দূরে থাকা পরিবারের সদস্যরা শিকড়ের টানে ফিরে আসেন ঘরের মাঠে। আট থেকে আশি—সকলে মিলে একসঙ্গে পুজোর আয়োজন ও আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন, যা পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। আধুনিকতার ভিড়ে পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এই পুজো কেবল দেবীর আরাধনা নয়, বরং ইতিহাস, আবেগ ও একতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
