শম্ভুনাথ সেনঃ
পরিবেশের জন্য অন্যতম অভিশাপ হিসেবে গণ্য হওয়া কচুরিপানাকেই এবার গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনাময় সম্পদে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হলো বীরভূমের আহমদপুরে। স্থানীয় মহিলাদের স্বনির্ভরতার পথ দেখাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করা হয়েছে “Green Skill Development Programme – Water Hyacinth (Value-Added Handicrafts) Entrepreneurship Training”।
ভারত সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের সহায়তায় এবং Botanical Survey of India-এর বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে এই ৩৯০ ঘণ্টার দীর্ঘ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। সমগ্র আয়োজনটিতে সক্রিয় সহযোগিতা করছে Birbhum Institute of Rural Development Foundation (BIRD Foundation)। প্রথম পর্যায়ের এই বিশেষ ড্রাইভে ২০ জন SC মহিলাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৯ আগষ্ট এই প্রশিক্ষণ শিবিরের শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলঙ্কৃত করেন Botanical Survey of India-এর ডিরেক্টর Dr. Kanad Das, BSI EIACP PC-RP-এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তথা CNH-এর সায়েন্টিস্ট ‘E’ Dr. Jeewan Singh Jalal, বিশ্বভারতীর ডায়রেক্টর অফ স্টাডিজ Prof. Amit Kumar Hazra এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের MSME&T ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডায়রেক্টর Manikanchan Ganguly।
অনুষ্ঠানে BIRD Foundation-এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর গ্রামীণ জীবিকা গঠনে এই প্রকল্পের কার্যকারিতা ব্যাখা করেন। তিনি বলেন, “কচুরিপানা শুধুই জলাশয়ের সমস্যা নয়। সঠিক দক্ষতা, প্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণের সংযোগ ঘটাতে পারলে এটি গ্রামীণ মহিলাদের স্থায়ী জীবিকা ও উদ্যোক্তা তৈরির শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রশিক্ষণার্থীদের কেবল দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা নয় বরং ভবিষ্যতের সফল ‘গ্রিন এন্টারপ্রেনার’ (Green Entrepreneur) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।”
পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ জলাশয়গুলোকে কচুরিপানামুক্ত রাখতে যেমন সাহায্য করবে, তেমনই তৈরি হওয়া হস্তশিল্প গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় আর্থিক উন্নয়নকে এক সুতোয় বাঁধার এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

