সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
দীর্ঘদিনের পুরনো ও দুর্বল সেতুতে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই সেতুর উপর দিয়ে ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে প্রশাসন। এর ফলে খয়রাশোল থেকে রাজনগর যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা।
জানা গিয়েছে, খয়রাশোল থেকে রাজনগর যাওয়ার মূল রাস্তায় লোকপুর পেরিয়ে একটি সেতু রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো ওই সেতুটির অবস্থা বর্তমানে যথেষ্ট দুর্বল। ফলে সেতুর উপর দিয়ে ভারী যান চলাচল করলে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নজরে আসার পর প্রশাসনের তরফে সেতুটির উপর ভারী যান নিয়ন্ত্রণের বোর্ড লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের সতর্ক করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত ভারী যানবাহন আটকাতে সেতুর দু’পাশে লোহার বিম দিয়ে উচ্চতা-নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট উচ্চতার বেশি যানবাহন সেতুর উপর দিয়ে যেতে পারবে না।

এই সিদ্ধান্তের জেরে সমস্যায় পড়েছেন বাস ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা। তাঁদের বক্তব্য, খয়রাশোল থেকে রাজনগর যাওয়ার ক্ষেত্রে এই রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প পথে যেতে হলে অনেকটাই ঘুরপথে যেতে হবে। ফলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বাস চলাচল করতে হবে। অন্যদিকে বাসের পরিবর্তে ছোট গাড়ি ও মোটরবাইক সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে। যান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী গাড়ি ও ভারী পণ্যবাহী গাড়ির জন্য পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
পূর্ত (সড়ক) বিভাগের ২ নম্বর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মণিরুল মল্লিক জানান, সেতুটির বর্তমান অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। মেরামতির কাজ চলছে। মেরামতির পর বিশেষজ্ঞরা সেতুটি পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেতুর উপর দিয়ে কী ধরনের যান চলাচল করতে পারবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ওই এলাকায় বিকল্প সেতু তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে আপাতত নিরাপত্তার স্বার্থে ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জারি রাখাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

