বীরভূমের সাহিত্য-আকাশে নক্ষত্রপতন: প্রয়াত প্রবীণ কথাকার সন্তোষ মণ্ডল

শম্ভুনাথ সেনঃ

বীরভূমের কথাসাহিত্যের ঐতিহ্যবাহী ধারাকে যিনি দীর্ঘদিন লালন করেছেন, সেই প্রবীণ কথাকার সন্তোষ মণ্ডল ২৯ আগস্ট বিকেলে সিউড়ি সদর হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভোগার পর ৮০ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় বীরভূমের অন্যতম সতীপীঠ “বক্রেশ্বর মহাশ্মশানে”।স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৯৪৬ সালে বীরভূমের দুবরাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন এই সাহিত্যিক। দুবরাজপুর আর.বি.এস.ডি হাইস্কুল থেকে হায়ার সেকেণ্ডারি ও হেতমপুর কৃষ্ণচন্দ্র কলেজের প্রাক্তনী সন্তোষবাবুর স্কুলজীবনেই সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি। প্রথম উপন্যাস ‘পাখির পালক’-এর পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেলেও তিনি দমে যাননি, দ্বিগুণ উৎসাহে সাহিত্য সাধনায় মগ্ন হন।পেশাগত জীবনে তিনি দুবরাজপুর পুরসভার ট্যাক্স দারোগা পদে দীর্ঘ দিন কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি অবসর নেন। ‘রবিবারের পাতা’,‘দেশ’, ‘দৈনিক বসুমতী’, ‘মানসলোক’, ‘সত্যযুগ’, ‘গল্পসরণি’ ,বীরভূমের সর্বাধিক প্রচারিত সাপ্তাহিকী ‘নয়াপ্রজন্ম’,’দিদিভাই’-র মতো নামী পত্র-পত্রিকায় তাঁর একের পর এক গল্প পাঠকদের মুগ্ধ করেছে। উল্লেখ্য,বীরভূমের শ্রেষ্ঠ গল্পকার হিসেবে গল্পসরণী, নয়াপ্রজন্ম প্রভৃতি বহু সংস্থা থেকে স্বীকৃতি পেলেও তিনি চিরকাল নিরহংকারী থেকেছেন। তাঁর প্রয়াণে আঞ্চলিক সাহিত্যে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। মৃত্যুকালে রেখে গেলেন স্ত্রী পূর্ণিমারানী মণ্ডল, তিন পুত্র ও পুত্রবধূ, এক কন্যা ও জামাতা, নাতি-নাতনি এবং অসংখ্য সাহিত্য বন্ধু গুণমুগ্ধকে। তাঁর অনন্য সৃষ্টি অনুরাগী পাঠকদের হৃদয়ে চিরকাল উজ্জ্বল থাকবে এই কথাকার সন্তোষ মণ্ডল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *