সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
দু’দিনের বৃষ্টির পর হিংলো নদীর উপর নবনির্মিত ভাষাপুল ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খয়রাসোল ব্লকের বাবুইজোড় পঞ্চায়েত এলাকার পাঁচ ছয়টি গ্রামের বাসিন্দারা। প্রায় ৯৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভাষাপুলটি উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সেতুর সংলগ্ন রাস্তারও বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ঘটনাটি ঘটেছে খয়রাসোল ব্লকের বাবুইজোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন গহড়াকুড়ি এলাকায়, ‘শ্রীরামপুর হইতে ত্রিশূল রাস্তা’-র উপর হিংলো নদীর সেতুতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দু’দিনের বৃষ্টিতে হিংলো নদীতে জলস্তর ও স্রোত বাড়তেই নবনির্মিত ভাষাপুলের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি সেতুর আরও কিছু অংশ মারাত্মকভাবে বসে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
সেতুর পাশে থাকা নির্মাণকাজের সাইনবোর্ডটিও উপড়ে পড়ে রয়েছে। তবে সাইনবোর্ডে প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য এখনও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, প্রকল্পের নাম ‘শ্রীরামপুর হইতে ত্রিশূল রাস্তার উপর ভাষাপুল নির্মাণ কাজ’। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ৯৭ লক্ষ ৯১ হাজার ১৯০ টাকা।

কাজ শুরুর তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৫ এবং শেষ করার তারিখ ২৩ মার্চ ২০২৬। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে WBSRDA, Birbhum এবং তহবিল SDMF। ঠিকাদারি সংস্থার নাম জনার্দন কনস্ট্রাকশন, রসা, বীরভূম।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি নির্মিত এই সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন গহড়াকুড়ি, বাতাসপুর, মুসলিয়া, পলাশবুনি, আলুকুড়ি-সহ অন্তত পাঁচ-ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের বহু মানুষও এই পথ ব্যবহার করেন। বাবুইজোড় বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বাবুইজোড় হাইস্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি ভেঙে পড়ায় বিশেষভাবে সমস্যায় পড়েছেন ওপারের গ্রামের পড়ুয়ারা। বাবুইজোড় হাইস্কুলে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যযাত্রী, রোগী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সেতুটির এই পরিণতি হয়েছে।
প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি নবনির্মিত সেতু কীভাবে এত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হল, তা নিয়ে এলাকায় জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
স্কুলপড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় কয়েকজন যুবক নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছেন। রাধা বাউরি ও তাঁর সঙ্গীরা ভেঙে যাওয়া অংশে মাটি ও পাথর ফেলে অন্তত সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছেন।
নবনির্মিত সেতুর এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বিধায়ক সহ এলাকায়। দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা বলেন ব্রীজ তৈরির গুনগতমান সহ সমস্ত দিকগুলো প্রশাসনিক ভাবে তদন্ত করে দেখা হোক। পাশাপাশি ব্রীজটি দ্রুত সংস্কার করে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সেতুটি কীভাবে এবং কেন ভেঙে পড়ল, তা দ্রুত তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সেতু মেরামত করে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।

