সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
খেলাধুলার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং যুবসমাজকে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে মাঠমুখী করে তোলার লক্ষ্যে তিন দিবসীয় নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় খয়রাশোল ব্লকের থমতাড়া গ্রামে। থমতাড়া খান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালনায় আয়োজিত এই ফুটবল প্রতিযোগিতাকে ঘিরে গ্রামে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের খেলাকে কেন্দ্র করে সোমবার দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বর্তমান সময়ে নানা কারণে মানুষ মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। সেই চাপ কিছুটা লাঘব করার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যুবসমাজকে মাঠমুখী করার বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ বলে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত চার বছর ধরে এই প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে।এ বছর প্রতিযোগিতাটি পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করেছে।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বীরভূম, বর্ধমান-সহ পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। তিন দিন ধরে চলা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার। ফাইনালে মুখোমুখি হয় স্থানীয় লোকপুর থানার ভালুকতোড় আল আমিন মিশন ফুটবল দল এবং খয়রাশোল থানার কেন্দ্র গড়ে ডিহি পাড়া ফুটবল দল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কোনো দল গোল করতে না পারায় ট্রাইব্রেকারের মাধ্যমে খেলার নিষ্পত্তি হয়।ট্রাইবেকারে প্রথমে ৩-৩ শর্টে ও ড্র থেকে যায়। পরবর্তীতে গোল্ডেন শর্টের মাধ্যমে ভালুকতোড় ফুটবল দল বিজয়ী ঘোষিত হয় বলে জানা যায়।
প্রতিযোগিতার বিজয়ী দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও সুদৃশ্য ট্রফি এবং বিজিত দলের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা ও সুদৃশ্য ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে থমতাড়া খান স্পোর্টিং ক্লাবের যুবকদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে দর্শকদের বিপুল উপস্থিতি এই ক্রীড়া আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রামবাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, পারস্পরিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার বার্তাও উঠে আসে। থমতাড়া খান স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্য জিয়াউল খান একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতিযোগিতার আয়োজন, উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেন।

