শম্ভুনাথ সেনঃ
মহারাষ্ট্র ও গোয়ার ধাঁচে এবার বাংলার রাজনীতিতেও শুরু হলো ‘রিসর্ট কালচার’। ঝাড়খণ্ডের ম্যাসাঞ্জোরের একটি গেস্ট হাউসে তৃণমূলের কাজল-বিরোধী গোষ্ঠীর গোপন বৈঠক এবং খোদ কাজল শেখের সভাধিপতি পদ থেকে আচমকা ইস্তফায় বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বীরভূম জেলা সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন ১৯ জন জেলা পরিষদ সদস্য। এরপর আগামীকাল ২১ আগস্ট তলবি সভা ডাকার কথা থাকলেও, তার আগেই আজ ২০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকালে পদত্যাগ করেন জেলা সভাধিপতি তথা হাসন কেন্দ্রের বিধায়ক কাজল শেখ। ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে। ইস্তফা দিতেই সভাধিপতির চেম্বার থেকে খুলে ফেলা হয়েছে তার নাম। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ম্যাসাঞ্জোরের ওই বৈঠকে তৃণমূলের ১৮ জন বিদ্রোহী সদস্য ছাড়াও বিজেপির একাধিক নেতার উপস্থিতি ছিল। বৈঠক থেকেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও ক্ষমতার দর কষাকষির রূপরেখা তৈরি হয়।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখ—উভয় পক্ষকেই দূরে সরিয়ে রেখে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। আগামী দিনে এই ক্ষমতার রদবদল কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সমীকরণ নিয়ে আগামী দিনে কে হচ্ছেন বীরভূম জেলা সভাধিপতি সেদিকেই তাকিয়ে জেলাবাসী।

