শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের তীর্থভূমি তারাপীঠের “বিদেশিনী” হোটেলে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ড এবং নয়জনের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে তারাপীঠের হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। সরকারি নিয়ম ও ছাড়পত্র না থাকায় মোট ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই তালিকার মধ্যে বীরভূম জেলা পরিষদের এক তৃণমূল সদস্যের হোটেলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নিয়ে জনমানসে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ওই হোটেলগুলোতে কর্মরত সাধারণ কর্মীরা। রাঁধুনি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বহু শ্রমিকের রুজি-রোজগার হঠাৎ করেই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় তাদের পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে উদ্বেগের ছায়া। হোটেল ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত কর্মীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কড়াকড়িকে তারা সমর্থন করলেও, হঠাৎ জীবিকা হারানোর ভয়ে তারা অত্যন্ত আতঙ্কিত।
হোটেল মালিকদের একাংশ, যাদের মধ্যে ওই জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন, দাবি করেছেন প্রশাসনিক নিয়মের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাবেই এই ত্রুটি হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে কর্মীরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে তাদের জীবিকার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

