সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বীরভূমের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে দেখা দিয়েছে নানা টানাপোড়েন। তারই জেরে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছিল রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতিতেও। অবশেষে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সদস্যের সমর্থনে বিজেপির একমাত্র সদস্য অনুপ গড়াই পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন।
উল্লেখ্য, রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির মোট ১৫টি আসনের মধ্যে বিজেপির আসন মাত্র একটি। এতদিন তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতি-সহ বিভিন্ন সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। এমনকি তৃণমূলের সদস্যরাই সভাপতি নিবেদিতা সাহার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। পরদিনই তিনি মহকুমা শাসকের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একইভাবে সহ-সভাপতি পরিমল সাহাও পদত্যাগ করেন। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্ম এবং ধীর হয়ে যায় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের গতি।
পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচনের জন্য দু’দুবার দিন ধার্য করা হলেও একমাত্র বিরোধী দলনেতা ছাড়া অন্য কোনও সদস্য উপস্থিত না থাকায় নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে সোমবার সহ-সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। এদিন তিনজন তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য উপস্থিত হন। তাঁদের সমর্থনেই বিজেপির সদস্য অনুপ গড়াই সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সহ-সভাপতি পরিমল সাহা। নবনির্বাচিত সহ-সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “অনুপ গড়াই একজন কাজের লোক। তাঁর হাত ধরে রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে যাবে।” এছাড়া তৃণমূলের অন্য দুই সদস্যদের মধ্যে ছিলেন রিংকি মাল ও গোপাল সাহা।
বিজেপির সদস্য অনুপ গড়াই সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। সহ-সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রাজনগর থানার পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
