সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অবশেষে পরিবারের সন্ধান পেলেন এক বৃদ্ধা। বীরভূম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সিউড়ির বৃদ্ধাশ্রম থেকে নিজের মেয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরলেন তিনি। জানা যায়,পাথরচাপড়ী মাজারে জিয়ারত করতে এসে বাড়ি ফেরার পথে সিউড়িতে সঙ্গীহীন হয়ে পড়ে বৃদ্ধা। খবর পেয়ে স্থানীয় সিউড়ি থানার পুলিশ উদ্ধার করে এবং সিউড়ি থানার অন্তর্গত একটি বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় দিয়েছিলেন। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও থানার সহযোগিতায় যৌথ ভাবে বৃদ্ধার ঠিকানা সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁর পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পেতে বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়। অন্যদিকে বীরভূম জেলা পুলিশ সুপারের অফিস থেকে ভাতার থানার ওসি র ফোন নম্বর নিয়ে অধিকার মিত্র মহম্মদ রফিক যোগাযোগ করেন।যার প্রেক্ষিতে ভাতাড় থানার ওসি তৎপরতার সঙ্গে ঐ বৃদ্ধার আত্মীয়ের বাড়ি খুঁজে বের করেন এবং বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার পক্ষ থেকে বৃদ্ধার মেয়ে সাখিনা বেগম শেখ ও তাঁর স্বামী আনাই মল্লিক, গ্রাম—এরুয়ার, পোস্ট—রামপুর, থানা—ভাতারকে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে তাঁরা সিউড়ির বৃদ্ধাশ্রমে এসে ওই বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করেন। মেয়ে ও মা দুজনেই একে অপরকে চিনতে পারেন। বৃদ্ধাও মেয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরতে সম্মতি জানান। এরপর বিষয়টি বীরভূম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের অধিকার মিত্র মহম্মদ রফিক তদারকি করেন। বীরভূম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব নিরুপমা দাসভৌমিকের নির্দেশে তিনি সিউড়ি থানায় উপস্থিত হন। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লিখিত নথিপত্রের মাধ্যমে বৃদ্ধাকে তাঁর মেয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মেয়েকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের এই ঘটনায় বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়ে বীরভূম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, সিউড়ি থানা এবং ভাতার থানার পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানান। বীরভূম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ ও পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে আপনজনের কাছে ফিরতে পারলেন অসহায় বৃদ্ধা।
