সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কোথাও অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে, কোথাও স্ব ইচ্ছায় পদত্যাগ, আবার কোথাও অনাস্থা ভোটাভুটির আগেই পদত্যাগ করছেন । এমনই ঘটনা ঘটল বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনাস্থা ভোটাভুটির কথা থাকলেও তার আগেই সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর খয়রাশোল ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন লোকপুর পঞ্চায়েতের প্রধান রূপা গোপ।
পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর খয়রাশোলের বিডিও ডক্টর সৌমেন্দু গাঙ্গুলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রধান পদত্যাগ করলেও আইন মেনেই পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ১০ নম্বর ধারায় যে সমস্ত বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলি মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে রূপা গোপ বলেন, “পারিবারিক ও শারীরিক অসুবিধার কারণেই আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। বিডিও আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।”
তবে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কথাও। রূপা গোপের দাবি, খয়রাশোল ব্লকের দশটি পঞ্চায়েতের মধ্যে লোকপুর পঞ্চায়েতটি একসময় বিজেপির দখলে ছিল। ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রধান নির্বাচিত হওয়ার কিছু দিন পর তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তার বক্তব্য তখন শাসক দল তৃণমূলে যোগ না দিলে এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছিল না।তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পর পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। বিষয়টি খয়রাশোলের বিডিও এবং লোকপুর থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। একজন মহিলা প্রধান হিসেবে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে, লোকপুর এলাকার বাসিন্দা তথা রাজ্য বিজেপির সদস্য সুকুমার নন্দীর বক্তব্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৮টি, তৃণমূল ৪টি এবং তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে নির্দল হিসেবে লড়ে আরও ২ জন জয়ী হন। বিজেপির সদস্য রূপা গোপই প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন ।
সুকুমার নন্দীর অভিযোগ, পরবর্তীতে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের প্রলোভনে রূপা গোপ তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় পঞ্চায়েতটি তৃণমূলের দখলে চলে যায়। এরপর থেকেই লোকপুর পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২১ আগস্ট প্রধানের বিরুদ্ধে বিজেপির ছয় পঞ্চায়েত সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। প্রথমে ১০ সেপ্টেম্বর ভোটাভুটির দিন নির্ধারিত হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ১৪ সেপ্টেম্বর করা হয়। তাঁর দাবি, অনাস্থা ভোটাভুটির মুখে পড়েই রূপা গোপ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সুকুমার নন্দীর অভিযোগ, “লোকপুর পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ বর্তমানে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল, কল থাকলেও জল পড়ে না, এমনকি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। উন্নয়ন নিয়ে ছেলে খেলা হয়েছে। নতুন প্রধান দায়িত্ব নিলে ফের উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।”
যদিও বিজেপির এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন পদত্যাগী প্রধান রূপা গোপ। তাঁর পদত্যাগের পেছনে পারিবারিক ও শারীরিক সমস্যাকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানের পদত্যাগের পর লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পরবর্তী পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় এবং নতুন প্রধান কে হন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
