সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
বীরভূমের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে একযোগে গতি পেল বহু প্রতীক্ষিত দুটি রেল প্রকল্প। জেলা সদর সিউড়ি থেকে ঝাড়খণ্ডের নলা পর্যন্ত এবং সিউড়ি থেকে প্রান্তিক পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যৌথভাবে তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন ও ভারতীয় রেল।
আনুমানিক প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই দুই মেগা রেল প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজ এগিয়ে নিতে কলকাতায় পূর্ব রেলের সদর দফতর ফেয়ারলি প্লেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক শুভম আগরওয়াল।
প্রস্তাবিত সিউড়ি-নলা রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৩ কিলোমিটার। রাজনগর ও বক্রেশ্বরের উপর দিয়ে এই রেলপথ ঝাড়খণ্ডের নলা পর্যন্ত পৌঁছবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, সিউড়ি-প্রান্তিক রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩.৯৮ কিলোমিটার। এই রেলপথ বাস্তবায়িত হলে সিউড়ির সঙ্গে বোলপুর-শান্তিনিকেতনের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, আলোচনা অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই দুই রেলপথের সম্ভাব্য স্টেশন চিহ্নিতকরণের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। এবার দ্রুত Detailed Project Report (DPR) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
জেলাশাসক ধবল জৈন জানান, প্রকল্প দুটির বিষয়ে রেলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। তবে রেললাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জমি অধিগ্রহণ ও জমি হস্তান্তর। সেই প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই দুটি রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বীরভূমের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, জেলার পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষ করে বক্রেশ্বরের ধর্মীয় পর্যটন এবং শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক পর্যটনকে আরও শক্তিশালী রেল যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি সিউড়ি ও জেলার অন্যান্য এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাও অনেক বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন অনেকেই।
