সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি। রাতভর পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দোতলায় সিঁড়ির মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ দেখতে পাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল লোকপুর থানা এলাকায়। মৃতের নাম সন্তোষ মণ্ডল (৫৫)। তাঁর বাড়ি লোকপুর থানার শিবপুর গ্রামে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্তোষবাবু নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর প্রায় পঞ্চাশ জন গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজন রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর খোঁজ করেন। বিষয়টি স্থানীয় থানাতেও মৌখিকভাবে জানানো হয় বলে পরিবারের দাবি।
বুধবার সকালে নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দোতলার সিঁড়ির মধ্যে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে লোকপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন সন্তোষবাবু। মৃতের শ্যালক বীরেন গোপ দাবি করেন, সন্তোষবাবুর স্ত্রীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং পরিবারের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়া নিয়ে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ঘুরেও কোনও সুরাহা না মেলায় তিনি ক্রমশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
