
শম্ভুনাথ সেনঃ
চলে গেলেন বীরভূমের সিপিআইএমের প্রবীণ নেতা বীরভূম জেলা কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক দিলীপ গাঙ্গুলী। অনেকদিন তিনি দলের রাজ্য কমিটির সদস্য পদেও আসীন ছিলেন। গতকাল মধ্যরাতে সদর সিউড়িতে ছোটো ছেলের বাড়িতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থতা জনিত কারনে তাঁর প্রয়াণ ঘটে বলে পরিবার সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, তিনি ১৩ বছর ধরে সিপিআইএমের বীরভূম জেলা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। একবার বীরভূম জেলা পরিষদে জেলা কর্মাধ্যক্ষ পদে আসীন হন। এছাড়াও কৃষকসভা ও সিআইটিইউ’র জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সাথে। রাজ্যে বামফ্রন্ট শাসিত সরকার থাকাকালীন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তিনি সর্বদা ছিলেন সামনের সারিতে।

প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির মদতপুষ্ট জোতদার, নকশালদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তাঁকে একবার জেলেও যেতে হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলার রাজনৈতিক মহলে নামে শোকের ছায়া।তাঁর মরদেহ আজ ৫ ডিসেম্বর বেলা ১০ টায় সিউড়ির সিপিআই(এম) জেলা সদর দপ্তরে আনা হয়। সেখানেই তাঁকে শ্রদ্ধা জানান ও মরদেহে মাল্যদান করেন পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য তথা প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ রামচন্দ্র ডোম, সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ, প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি অন্নপূর্ণা মুখোপাধ্যায়, পার্টির জেলা কমিটির সদস্য দীপঙ্কর চক্রবর্তী প্রমুখ। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, এসইউসিআই দলের পক্ষ থেকেও তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তারপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় দুবরাজপুর এবং খয়রাশোলের সিপিআইএমের পার্টি অফিসে। পরে সেখান থেকে তাঁর পৈতৃক বাসভূমি দুবরাজপুর ব্লকের বালিজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের “কুখুটিয়া” গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর আত্মীয় পরিজনেরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় বীরভূমের অন্যতম সতীপীঠ বক্রেশ্বর মহাশ্মশানে।
