পতি-পত্নী ও রাজনগরের জেগে ওঠা জামিরা রাজরাজেশ্বরী মন্দিরের জাঁকের দুর্গাপুজো

উত্তম মণ্ডলঃ

যখন বেশিরভাগ নারী দামি দামি গয়নায় নিজের গা ঢাকতে চান, তখন এর বিপরীতেও কিছু ব‍্যতিক্রমী থাকেন, সংখ‍্যায় তাঁরা সংখ্যালঘু হলেও এমন কিছু কাজ করেন, যার জন্য কলম ধরতেই হয়। কারণ, অন্যরা যদি উৎসাহিত হন, অনুপ্রাণিত হয়, সেই আশায়।

ঋষি যাজ্ঞবল্ক‍্য যখন তাঁর সমস্ত পার্থিব সম্পদ দুই স্ত্রীর মধ্যে ভাগ করে দিতে চাইলেন, তখন মৈত্রেয়ী বলে উঠলেন, যা দিয়ে আমি অমৃতত্ত্ব লাভ করতে পারবো না, সেই সম্পদ নিয়ে আমি কি করবো?

ভারতীয় শাশ্বত নারীর এই হচ্ছে গৃহবধূ থেকে নারী-ঋষি হিসেবে উত্তরণের যাত্রাপথ। কালীপুজোর পরের দিন এমনই এক মৈত্রেয়ীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল হঠাৎই।

জেলা বীরভূমের প্রান্তিক অঞ্চল রাজনগর ব্লকের চন্দ্রপুর থানার একটি ছোট্ট গ্রাম “জামিরা।” বছর সাতেক আগে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় গোটা গ্রাম পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষত সারিয়ে গ্রাম জামিরার মাথায় এখন রাজরাজেশ্বরীর মুকুট।

ঘটনার শুরু খ্রিস্টিয় চতুর্দশ শতাব্দীতে। রাজনগর তখন রাঢ়ের শাসনকেন্দ্র। উড়িষ্যারাজ প্রথম নরসিংদেব রাজনগরের তদানীন্তন তুর্কি শাসক ফকর-উল-মুলুক করিমউদ্দিন ল‍্যাঙ্ঘ্রিকে পরাজিত ও নিহত করে দখল করে নেন রাজনগরসহ সমগ্র রাঢ়। এরপর বাংলার এইসব এলাকা উড়িষ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গঠিত হয় নতুন এক রাজ‍্য “মান্দারণ।”

বাংলার সেন বংশের শাসনের পরে উড়িষ্যারাজ প্রথম নরসিংহদেবের সহায়তায় বীরভূমের রাজনগরে এক শক্তিশালী হিন্দু রাজার আবির্ভাব ঘটে। বীরত্বের জন্য জনসাধারণের কাছে তিনি “বীররাজা” নামে পরিচিত ছিলেন। রাঢ়ীয় বঙ্গীয় কুলপঞ্জী অনুসারে, এই বীররাজার নাম—বসন্ত চৌধুরী। বীররাজ বসন্ত চৌধুরী দীর্ঘদিন তুর্কি আক্রমণ প্রতিহত করে রাজনগরে রাজত্ব করে গিয়েছেন‌। রাজনগরে এখনও তাঁর রাজপ্রাসাদসহ বহু কীর্তির ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বীরভূমে দু’জন বীররাজা ছিলেন। একজন, রাঢ়ী শ্রেণীর ব্রাহ্মণ বংশোদ্ভূত এই বসন্ত চৌধুরী, যাঁর সময়কাল খ্রিস্টিয় চতুর্দশ শতাব্দী। অন্যজন, বীরভূমের সিউড়ি থানার বীরসিংহপুরের ক্ষত্রিয় বংশোদ্ভূত বীরসিংহ, সময়কাল ষোড়শ শতাব্দী।

উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে ভাগ‍্যান্বষণে তিন ভাই—বীরসিংহ, চৈতন্য সিংহ ও ফতে সিংহ— ঘুরতে ঘুরতে বীরভূমের জঙ্গল অধ‍্যুষিত এই এলাকায় আসেন‌। তারপর এখানেই গড়ে তোলেন নিজেদের রাজ‍্যপাট। বড়ো ভাই বীরসিংহ নিজের নামে গড়ে তোলেন বীরপুরের জঙ্গলে রাজধানী “বীরসিংহপুর”, মেজ ভাই চৈতন্য সিংহের নামে গড়ে ওঠে ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে “চৈতন্য গ্রাম”, যা থেকে পরে হয় “চৈতন গাঁ”, এবং তা থেকে বর্তমানে “খটঙ্গা।” ছোট ভাই ফতে সিংহ গড়ে তোলেন মুর্শিদাবাদের ফতে সিংহ পরগণা।

তিন ভাই একত্রিত হয়ে এলাকায় তুর্কি আক্রমণ প্রতিহত করে সগৌরবে রাজত্ব করছিলেন। সুলতান গিয়াসউদ্দিন তখন ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে বার বার বীরসিংহকে আক্রমণ করছিলেন। অন‍্যদিকে, বীরভূমে তখন পাহাড়িয়া ঝাড়বান্দি দস্যুদের ভীষণ উপদ্রব চলছিল। তারা মাঝে মাঝেই পাহাড় থেকে সমতলভূমিতে নেমে এসে লুঠপাট চালিয়ে আবার পাহাড়ে ফিরে যেতো। এরা ছিল কাজ হারানো বিভিন্ন খিলজি সর্দার ও তাদের দলবল। জীবিকা হারানোর ফলে এই সব লোকজনের গ্রাসাচ্ছাদনের কোনো উপায় ছিল না। তাই বেছে নেয় লুঠপাটের পথ। শের শাহের সময় এদের উপদ্রব চরমে ওঠে। শাসক শের শাহ তখন এদের দমন করতে আবদুল্লা নামে এক কর্মচারিকে সিউড়ির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করেন।

জনশ্রুতি অনুসারে, আবদুল্লা এই বীরসিংহপুরের বীররাজা বীরসিংহের সহায়তায় এই ঝাড়বান্দি দস‍্যুদের দমন করেন। সে সময় একটি যুদ্ধে বীরসিংহ প্রাণ হারান। সম্ভ্রম রক্ষায় রাণী কাছেই একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সেই পুকুর “রাণীদহ” নামে এখনও বর্তমান রয়েছে। রাজা বীরসিংহপুরের একটি কীর্তি এখনও মানুষের আকর্ষণের বিষয়। তা হলো, সিউড়ি থানার বীরসিংহপুরে অবস্থিত কালো গ্রাণাইট পাথরে তৈরি একটি কালী মূর্তি। লোকেরা এটিকে “বীরসিংহপুরের কালী” বলে থাকেন। আবার এটি “জরাসন্ধের কালী” নামেও পরিচিতা। তান্ত্রিক পরিভাষায় মূর্তিটি “বিপরীত-রতাতুরা।”

এই কালী আগে ছিলেন রাজনগরে। রাজা বসন্ত চৌধুরী তাঁর দুই পাঠান সেনাপতি আসাদ খান ও জোনেদ খানের হাতে অতর্কিত আক্রমণে নিহত হোন। এরপর রাজনগরে শুরু হয় পাঠান রাজত্ব। অনেক লেখক বীরভূমের এই দুই বীররাজাকে বেমালুম এক করে দিয়েছেন, কিন্তু সময়ের বিচারেই তাঁরা ভিন্ন ব‍্যক্তি‌।

রাজনগরসহ বীরভূমে ঝাড়বান্দি দস‍্যুদের আক্রমণ প্রায়শই ঘটতো। এজন্য সামরিক ব‍্যবস্থা জোরদার করা জরুরি ছিল এবং সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় ছিল পাহারার ব‍্যবস্থা। মাঝে মাঝে ছিল প্রবেশ পথ, যা ছিল “ঘাট” নামে পরিচিত এবং এই ঘাট পাহারায় ছিলেন রাজপুত ” ঘাট-ওয়াল”, যা থেকে পরে তাঁদের নাম হয় “ঘাটোয়াল।”
রাজনগরের হীরাখুনি এলাকায় একসময় ছিল গভীর জঙ্গল।
“হীরাখুনি” নামের নেপথ্যেও রয়েছে ইতিহাস। আগে কেউ কেউ বলেছেন, এই জঙ্গলে হীরা নামে এক দুর্ধর্ষ ডাকাত থাকতো এবং তার নাম থেকেই হয়েছে হীরাখুনি। অন্য একটি মত অনুসারে, রাজনগরের বীররাজা বসন্ত চৌধুরীর সময় এই জঙ্গলে পথের মধ্যে হীরা নামে এক সালংকারা মহিলা দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হোন। আর এই “হীরা”-র নাম থেকেই স্থানটির নাম “হীরাখুনি।” বর্তমান সিউড়ি-রাজনগর পাকা রাস্তার ধারে রয়েছে হীরাখুনি বাসস্ট্যাণ্ড। সরকারি সাইনবোর্ডে অবশ্য লেখা “হীরাকুনি মোড়।” এই মোড় থেকেই রাস্তা চলে গেছে জামিরা গ্রামের দিকে। কেউ কেউ আবার অতি উৎসাহী হয়ে এ এলাকায় হীরের খনির সন্ধান করেছেন। কিন্তু এই অঞ্চলে কোথাও হীরের খনি নেই।

যাই হোক, জঙ্গল এলাকায় পথিকদের নিরাপত্তার জন্য রাজনগরের বীররাজা বসন্ত চৌধুরী এখানে ঘাট পাহারার ব‍্যবস্থা করেন। আর বর্তমান বীরভূমের রাজনগর ব্লকের চন্দ্রপুর থানার জামিরা গ্রামের “রায়” পদবিধারী সাহসী রাজপুতরা ছিলেন হীরাখুনি ঘাট পাহারার দায়িত্বে।

জামিরা গ্রামের এই ঘাট পাহারাদার রাজপুতরা নিজেদের জামিরা গ্রামে শুরু করেন একটি ছোট্ট মাটির ঘরে নবপত্রিকা ও ঘট সাজিয়ে দুর্গাপুজো। রাজনগরের বীররাজা বসন্ত চৌধুরী এখানে পুজোর জন্য প্রায় দুশো বিঘে নিষ্কর জমি দিয়েছিলেন। মূলত ঘাটোয়ালরাও ঘাট পাহারার বিনিময়ে জমি ভোগ করতেন।

এভাবেই জামিরা গ্রামে অনাড়ম্বরভাবে দুর্গাপুজোর শুরু। তারপর বীররাজা বসন্ত চৌধুরী চলে গেছেন, তারপর পাঠান রাজত্বও শেষ হয়ে এসেছে ব্রিটিশ আমল। ব্রিটিশ সরকার বীররাজা বসন্ত চৌধুরীর দেওয়া দান জমি অধিগ্রহণ করে নেন। কাজেই ছোট্ট গ্রামে দুর্গাপুজো আর সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে নি।
এরপর আজ থেকে আট বছর আগে শুরু হয় জামিরা গ্রামে নতুন করে মন্দির নির্মাণের কাজ। এগিয়ে আসেন গ্রামের ভূমিপুত্র বর্তমানে সিউড়ি কোর্টের প্রথিতযশা অ্যাডভোকেট মৃত‍্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। নেপথ্যে তাঁর সুযোগ‍্যা সহধর্মিণী স্মৃতি মুখোপাধ্যায়। স্মৃতি দেবীর জন্ম বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ির কাছে আনন্দপুর গ্রামে। তবে পিতার সেচদপ্তরের কর্মসূত্রে বেশির ভাগটা কেটেছে ছত্তিশগড়ে।

তারপর মৃত‍্যুঞ্জয়-স্মৃতি পরিণয় জীবন এবং গৃহবধূ হিসেবে নতুন পথ চলা শুরু। অত‍্যন্ত অনাড়ম্বর আটপৌরে গৃহবধূ স্মৃতি মুখোপাধ্যায় সর্বদা পাশে থেকেছেন স্বামীর। মূলত স্মৃতি দেবীর উৎসাহেই স্বামী মৃত‍্যুঞ্জয় পেয়েছেন নিজের গ্রাম জামিরার মাটিতে সুউচ্চ সুদৃশ্য রাজরাজেশ্বরী দুর্গামন্দির নির্মাণের অক্সিজেন। নিজের সঞ্চয় তুলে দিয়েছেন মন্দির নির্মাণের কাজে। আট বছর ধরে কাজ চলার পর সম্পূর্ণ হয়েছে সে মন্দির। আর এই নবনির্মিত রাজরাজেশ্বরী মন্দিরের সৌজন্যেই বহুদূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মানুষ, যার ফলে অখ্যাত জামিরা গ্রাম এখন একটি অতিজ্ঞাত স্থান।
খ্রিস্টিয় চতুর্দশ শতাব্দীতে একটি ছোট্ট মাটির ঘরে শুধুমাত্র ঘট ও নবপত্রিকা সাজিয়ে যে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল, ২০২১-এ এবার সাড়ম্বরে নবনির্মিত রাজরাজেশ্বরী দুর্গা মন্দিরে ঘটলো মায়ের অভিষেক‌। ছোট্ট অজ অখ‍্যাত গ্রাম জামিরার এখন পরিচয়—রাজরাজেশ্বরী মন্দির। খুব জাঁকজমকের সঙ্গেই হচ্ছে দুর্গাপুজো। রাতে নজরকাড়া আলোর কাজ, মানুষের চোখকে টেনে রাখে। তবে এই মন্দিরে পশুবলি নিষিদ্ধ।
মন্দিরের সামনে সযত্নে রক্ষিত প্রাচীন নারায়ণ শিলা।
ঘুরতে ঘুরতে ২০২৩-এ ক্ষেত্রসমীক্ষায় হাজির হয়েছিলাম জামিরা গ্রামে। সঙ্গে সাংবাদিক বন্ধু সুভাষ মাজি, কবি চন্দন চট্টোপাধ্যায় ও বাচিক শিল্পী প্রভাত দত্ত। রাজরাজেশ্বরী মন্দির চত্বরেই বসেছিল আমাদের আড্ডা। হঠাৎ করেই মন্দিরে এলেন মুখোপাধ্যায় দম্পতি। আলাপ থেকে ইতিহাসের গভীরে ঢুকে গেলাম একসময়।

ঘর তিরিশেক পরিবারের বসবাস এই জামিরা গ্রামে।
এবার ২০২৪-এ দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দুপুরে দেখা হলো গ্রামের “বাহাত্তরের জামাই”-এর সঙ্গে। মানে ইংরেছি ১৯৭২ সালে তিনি এই গ্রামের জামাই হয়ে এসেছিলেন বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর অঞ্চল থেকে। নাম –রামনাথ রায়। বয়স বর্তমানে ৭৫। দুর্গাপুর শিল্প নগরীতে চাকরি করতেন, এখন অবসর জীবন। তাঁর স্মৃতি বলছে, তখন সন্ধ্যায় কেউ প্রায় আসতো না এদিকে । তবে এই গ্রামে একসময় যাত্রা হত খুব ভালো। তাঁর বিয়েতে চারখানি গাড়ি এসেছিল আর তা দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছিল গ্রামের মানুষ। মুখার্জী ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় রাজপুত জাতির বাস গ্রামে। আশেপাশের গ্রাম ফরিদপুর, গামার কুণ্ড, বেড়েলা, গণেশপুর।
একসময় গ্রামের ডাঙায় ছিল আমবাগান । বটগাছ ছিল। সে আমবাগান এখন আর নেই।
জামির বা জামগাছের প্রাচুর্যের জন্য এই গ্রামের নাম আসতে পারে। গ্রামের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে, দার্জিলিং লেবুর চারা এই এলাকার মাটিতে বসালে তাতে ভীষণ টক “জামির” ফলে ।

অখ্যাত জামিরা গ্রামের বর্তমানে বিখ্যাত রাজরাজেশ্বরী মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে বোঝা গেল, বাংলার নারীদের মধ‍্যে কোথাও কোথাও এখনও মৈত্রেয়ীরা রয়েছেন, যাঁরা ভরি ভরি সোণায় নিজেদের না মুড়ে রাখছেন স্থায়ী কীর্তি। যেমন, এই রাজরাজেশ্বরী মন্দির। আর মৈত্রেয়ীরূপিণী স্মৃতিরা এখন তাই মৃত‍্যুঞ্জয় স্বামীর কাছে “শক্তিরূপেণ সংস্থিতা!”

ছবি : লেখক।

তথ‍্যসূত্র:

1) Annuals of Rural Bengal: W.W. Hunter.
2) Birbhum District Gazetteer: L.S.S. O’ Mally.
3) তাঁতলয় মাহাত্ম্য গীতা: স্বামী বিরজানন্দ সরস্বতী।
4) ব‍্যক্তিগত ক্ষেত্রসমীক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এআই শিখুন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যান!


এআই কোর্স: ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড! Zed Age Infotech এর তরফ থেকে প্রথমবার বীরভূম জেলায়! আপনি কি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষক নাকি ছাত্র/ছাত্রী? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) আপনার কাজ এবং লেখাপড়াকে আরও সহজ এবং কার্যকর করতে পারে! Zed Age Infotech এর নতুন এআই কোর্সে যোগ দিন! বিশদ জানতে কল করুন 9474413998 নম্বরে অথবা নাম নথিভুক্ত করতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।

This will close in 120 seconds