রসনা তৃপ্তিতে বীরভূমের তাঁতিপাড়ার জিলিপি সুনাম বজায় রেখেছে আজও

শম্ভুনাথ সেনঃ

বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে অন্যতম উপাদান মিষ্টি। পেটে তিল ধারনের জায়গা না থাকলেও ভোজ-ভাতের পর শেষ পাতে মিষ্টি না হলে চলেই না! তাইতো আমাদের বাংলায় রকমারি মিষ্টির বাহার। রসগোল্লা থেকে শুরু করে সন্দেশ, পান্তুয়া, ল্যাংচা, লবঙ্গলতিকা কোনোটাই বাদ যায় না তালিকা থেকে। কিছু মিষ্টি আছে, যেগুলি স্বাদে ও আকারে অন্যান্য সাধারণ মিষ্টির থেকে অনেকটাই আলাদা। সেরকমই একটি মিষ্টি “মোরব্বা”। কলকাতার রসগোল্লা বা শক্তিগড়ের ল্যাংচা, বর্ধমানের সীতাভোগ কিংবা কৃষ্ণনগরের সরভাজার মতো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জুড়ে গিয়েছে বীরভূমের সিউড়ির “মোরব্বার” নাম। তেমনই রাজনগর ব্লকের তাঁতিপাড়ার জিলিপির সুখ্যাতি এখন রাজ্য ছাড়িয়ে পৌঁছেছে ঝাড়খণ্ড-বিহার পর্যন্ত।


কালো কলাই এবং আতপ চালের গুঁড়োর সংমিশ্রণ আর কারিগরের নিপুন হাতে তৈরি হয় এই জিলিপি। দেখতে খানিকটা ফ্যাকাসে সাদা, কারণ এতে কোনও কৃত্রিম রঙের ব্যবহার হয় না। তৈরির প্রক্রিয়াটিও দীর্ঘ। কালো কলাই সারারাত ভিজিয়ে খোসা ছাড়ানো হয়। তারপর শিল-নোড়ায় বাটা ও চালের গুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে ঘিয়ে ভেজে চিনির ঠাণ্ডা রসে ডোবানো হয়। পরে রস থেকে তোলা হয়। মুচমুচে জিলিপির ভিতরে রসে ভরা, মুখে গেলে এক অপূর্ব স্বাদ। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ভাইফোঁটার মতো প্রতি উৎসবে এই জিলিপির কদর আরও বেড়ে যায়। কুটুম্ব বা অতিথি এলেই তাঁতিপাড়ার বাসিন্দারা আপ্যায়নে গর্ব করে বাড়িয়ে দেন তাঁদের বিখ্যাত জিলিপি। তাঁতিপাড়ার হাটতলার সুমন রুজ আজও বাবার কাছ থেকে শেখা সেই পুরোনো রীতিতে জিলিপি তৈরি করেন। দিনে প্রায় ৩০-৪০ কেজি বিক্রি হয়। উৎসবের সময়ে বিক্রি বেড়ে ৪-৫ কুইন্টাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।” বর্তমানে জিলিপির দাম প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা মন্টু ধীবর বলেন, বহু দূর থেকে মানুষ আসেন তাঁতিপাড়ার এই জিলিপি কিনতে। এটা আমাদের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *