
শম্ভুনাথ সেনঃ
পৃথিবীতে কিছু মানুষ আসেন শুধু নিজেকে বিলিয়ে দিতে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে নিরলস কর্মে ব্রতী থাকেন। তেমনি একজন দেশপ্রেমী, সর্বত্যাগী, সাহসী, সমাজসেবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী মিহিরলাল চট্টোপাধ্যায়। আজ ১৬ ডিসেম্বর মিহিরলাল স্মৃতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে সদর সিউড়িতে বীরভূম সাহিত্য পরিষদের সভাকক্ষে তাঁর ১২৫ তম জন্মদিন যথোচিত শ্রদ্ধায় উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শান্তি কুমার মুখোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন মিহির বাবুর ছায়াসঙ্গী তথা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালীপদ দাশ, শিক্ষাবিদ ড. পার্থসারথী মুখোপাধ্যায়, গবেষক ড. বাদল সাহা, ৯২ বছর বয়সী এক প্রবীণা ব্যক্তিত্ব বীণাপাণি দেবী প্রমুখ।

মিহিরলাল বাবুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অলোকা গাঙ্গুলি, অসীমা মুখোপাধ্যায় ও বিমল সোম। শুরুতেই স্বাগত ভাষণ দেন সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক সরোজ কর্মকার। এদিনের অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক তথা গবেষক সোমনাথ মুখোপাধ্যায়। মিহিরলাল বাবুর সারা জীবনের ত্যাগ, তিতিক্ষা, সংগ্রামী জীবন-আদর্শ তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, জেলার অন্যতম এক স্বাধীনতা সংগ্রামী সুরেন্দ্রনাথ সরকারের আত্মজ সাম্যসাধক সরকার তার অনুপস্থিতির জন্য মিহিরলাল চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে পাঠানো একটি চিঠি পাঠ করা হয়। পাঠ করেন ড. পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়। এই মঞ্চে এদিন কালীপদ দাশের রচিত “বেলা শেষে” নামের একটি গবেষণা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচিত হয়। সেই সঙ্গে বীরভূম সাহিত্য পরিষদের অন্যতম সহ সভাপতি ডঃ বাদল সাহার কাব্য গ্রন্থ “গোধূলির অস্তরাগে” বইটিও প্রকাশিত হয়।

