কবিগুরুর শ্রীনিকেতনের ১০৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত ২৯ তম গ্রামীণ কবি ও সাহিত্যিক সম্মেলন

শম্ভুনাথ সেনঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পল্লী প্রকৃতি’ ভাবনার সঠিক রূপায়ন যে কেবল উৎসবে নয়, বরং সুস্থ সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়েও সম্ভব, তা এই ২৯ তম গ্রামীণ ও কবি-সাহিত্যিক সম্মেলন আবারও প্রমাণ করল। ৬-৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীনিকেতনের ১০৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব-১৪৩২ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। উৎসবের অঙ্গ হিসেবে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্তোষ পাঠশালা প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত ২৯ তম গ্রামীণ কবি ও সাহিত্যিক সম্মেলনে মুখরিত হয় শিক্ষাসত্র প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক তথা কবি, সাহিত্যিক ডঃ আদিত্য মুখোপাধ্যায়। সমবেত উদ্বোধনী সংগীত এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ ও কবি-সাহিত্যিক সম্মেলনের সূচনা হয়। বিশ্বভারতীর শ্রীনিকেতন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে গ্রামীণ জনজীবনের লোকজ সংস্কৃতি এবং আধুনিক সাহিত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন এদিন প্রত্যক্ষ করেন উপস্থিত গুণীজনেরা।

উল্লেখ্য, ১৯২২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পল্লী পুনর্গঠনের যে আদর্শ নিয়ে শ্রীনিকেতনের জয়যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিবছর এই বার্ষিক উৎসব পালিত হয়। এ বছরের এই উৎসবে ২৯ তম গ্রামীণ ও কবি-সাহিত্যিক সম্মেলনটি ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়, জেলা এবং ভিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবিরা মাটির গন্ধ মাখা গ্রামীণ ছড়া থেকে শুরু করে তাঁদের স্বরচিত আধুনিক কবিতা পাঠ করেন। ডঃ ফাল্গুনী ভট্টাচার্য, অনির্বাণ জ্যোতি সিংহ দীনবন্ধু ঘোষ, তানজিলাল সিদ্দিকী, গৌরগোপাল পাল, অসীকার রহমান এমন শতাধিক কবি সাহিত্যিক এদিন উপস্থিত ছিলেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রহ্লাদ দেব, কাঞ্চন দাশগুপ্ত, সুকুমার দাসেদের আপ্যায়ন ও আন্তরিকতা ছিল আকর্ষণীয়। উপস্থিত সকলকে পরিশ্রুত পানীয় জল, চা, জলযোগ ও মধ্যাহ্নকালীন আহারে আপ্যায়িত করেন আয়োজকরা। অংশগ্রহণকারী কবি সাহিত্যিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *