“খুশির ঈদ”

সন্তোষ পালঃ

“রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন্ আসমানী তাগিদ”
ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান হল নবম মাস, যে মাস মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র মাস। সমগ্র বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘ এক মাস ধরে রোজা পালন করেন। রোজার আরেক নাম সিয়াম যার অর্থ সংযম। এককথায় রোজা হলো সংযম সাধনার মাস। বাক-সংযম, বাহু সংযমের কথাই বলেছেন হজরত মহম্মদ সা। তিনি বলেছেন যারা রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোজা রেখেছে তারা এই দিনটির মতো নিষ্পাপ যা পবিত্র হয়ে উঠবে যেমনটি ছিল তাঁর জন্মের দিনটিতে। সমস্ত গ্লানি উপবাসের কৃচ্ছ সাধনের দ্বারা পুড়িয়ে দিয়ে বিশুদ্ধ হয়ে ওঠায় রমজান মাস পালনের অন্যতম ব্রত। রোজা পালনের সাথে অঙ্গাঙ্গী যুক্ত জাকাত ও ফিতরা। জাকাত অর্থাৎ সম্পদ কর এবং ফিতরা অর্থাৎ দান করা। যেটা বাধ্যতামূলক। এক মাসের রোজা পালন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যার মাধ্যমে ক্ষুধা কী, অনাহার কী, তা যিনি রোজা রাখেন তিনি উপলব্ধি করতে পারেন। যে ব্যক্তি রোজা পালনে অক্ষম তাঁর কাছে উপায় হলো অনাহারে থাকা প্রতিবেশীকে অন্নদানকরা। স্বামী বিবেকানন্দ হজরত মহম্মদের রোজা পালনের রীতিনীতিকে সাম্যবাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সমর্থনও করেছেন। বর্তমানে ঈদ বা ইদলফেতর এক সর্বাঙ্গীণ রূপ লাভ করেছে। সারা মাসব্যাপী রোজা পালনের পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর, ভিন্নধর্মী মানুষদের ইফতার পার্টিতে উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে যা সম্প্রীতির নিদর্শন। আজ পালিত হচ্ছে খুশির ঈদ। এজন্য মুসলিম ভাইদের জানাই শুভেচ্ছা। সম্প্রীতির কবি নজরুল ইসলামের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম এই কলাম, শেষ করছি তাঁরই গানের কথা দিয়ে। “আজ ভুলে যা তোর দোস্ত্-দুশমন হাত মেলাও হাতে….। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *