
শম্ভুনাথ সেনঃ
কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে ভেঙে ফেলা হচ্ছে প্রখ্যাত শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। যা নিয়ে এলাকার মানুষের ক্ষোভ, আক্ষেপ চরমে৷ উল্লেখ্য, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় আচার্য ছিলেন৷ তাঁর ছেলে অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে একটি বাড়ি করেছিলেন৷ সেই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর নামানুসারেই শান্তিনিকেতনের ওই জায়গার নাম হয় ‘অবনপল্লী’। সেই ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত ‘আবাস’ নামক বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। জানা গিয়েছে সেখানে নাকি বহুতল নির্মাণ হবে৷ এই বাড়ি ভেঙে ফেলায় নানা প্রশ্নচিহ্ন এলাকার মানুষের মনে! অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির প্রতিবেশী সুব্রত সেন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, অবন ঠাকুর, অলক ঠাকুরদের নামানুসারেই এটা ‘অবনপল্লী’। আমরা ভাবতেও পারছি না এত সুন্দর এই বাড়ি এভাবে ভেঙে ফেলা হবে।” ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুদৃপ্ত ঠাকুর বলেন, “জমি ব্যবসায়ীদের কাছে অবনীন্দ্রনাথের চেয়ে জমির দাম বেশি ৷ শেষ পর্যন্ত অবনীন্দ্রনাথের স্মৃতিটাকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে এটা খুবই মর্মান্তিক”। প্রসঙ্গত, গত দুই দশক ধরে বোলপুর-শান্তিনিকেতনে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। কোপাই নদীর তীর, আদিবাসীদের জমি দখল করে গড়ে উঠছে বিলাশবহুল আবাসন, রিসর্ট, রেঁস্তোরা, হোটেল। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সুখের কথা বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। শান্তিনিকেতনের অবনপল্লীতে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আবাস” বাড়ি ভাঙার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় বোলপুর পৌরসভা। গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে যা ভাঙ্গা হয়েছে ততদূর পর্যন্তই আটকে রয়েছে। যাবতীয় কাগজপত্রে নথি চেয়েছে বোলপুর পুরসভা। প্রতিরোধে পুরসভায় এগিয়ে আসায় খুশি অবনপল্লীর আশ্রমিকেরা।