
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
খয়রাসোল ব্লক এলাকা কি ফের খুনোখুনির রাজনীতি শুরু হয়েছে? হ্যাঁ, এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়। বেশ কিছুদিন যাবত চাপা উত্তেজনা ছিল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে। দিন কয়েক আগেই কাঁকরতলা থানার জামালপুর গ্রামে বালির বখরা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যুযুধান দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় বোমাবাজি। যার জেরে একজনের একটি পা উড়ে যায় বোমার আঘাতে। সেই ঘটনার রেশ মিটতে না মিটতেই ফের শুক্রবার রাতে এক তৃণমূল কর্মী খুন হয় কাঁকরতলা থানার বড়রা গ্রামে। জানা যায় স্থানীয় থানার বড়রা গ্রামের তৃণমূল কর্মী সেখ নিয়ামুল সন্ধ্যা নাগাদ বড়রা বাসস্টপ থেকে নিজ বাড়ী যাওয়ার পথে দুষ্কৃতিকারীরা তার উপর লোহার রড, পাথর সহ ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত হানে সেখ কালো সহ তার দলবল বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ। নিয়ামুল এর কোমর, হাঁটু, পা ভেঙে দেওয়ার ফলে ক্ষতবিক্ষত শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

স্থানীয়রা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি নিয়ামুল কে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সিউড়ী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যায়। পুনরায় সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে ময়নাতদন্ত করানো হয়। এদিকে মৃত্যুর খবর চাউর হতেই বড়রা অঞ্চলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পৌঁছান জেলার বিভিন্ন পদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা। শনিবার ময়নাতদন্তের পর মরদেহ আনা হয় বড়রা গ্রামে। এলাকায় রয়েছে চাপা উত্তেজনা। নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা সহ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নিহতের বাড়িতে হাজির হন খয়রাশোল ব্লক তৃণমুল কংগ্রেস কোর কমিটির সদস্যরা।
