
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
একদা পুলিশ দেখলে মানুষ বহু যোজন দূরে সরে যেতে দেখা গেছে। সময় পাল্টেছে, সাথে পরিবেশ পরিস্থিতিও পাল্টেছে। সেই পুলিশ এখন জনগনকে কাছে টেনেছে যারফলে বর্তমানে বন্ধুর ভূমিকায় দেখা যায়।
সেরূপ বীরভূমের চন্দ্রপুর থানা পুলিশের মানবিক মুখ দেখল ওই থানারই অন্তগত তাঁতীপাড়া গ্রামের দীনবন্ধু বাগদী ও তার ছোট্ট মেয়ে বৈশাখী বাগদী সহ এলাকাবাসী। জানা যায় যে, স্থানীয় থানার তাঁতিপাড়া গ্রামের দীনবন্ধু বাগদী তার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মেয়ে বৈশাখী বাগদি কে নিয়ে চন্দ্রপুর থানায় যায়। সেই সময় কর্তব্যরত এ এস আই রুদ্র প্রতাপ সিংহের কাছে আবেদন জানান তার মেয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত। আজকেই রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু আক্রান্তের গ্রুপের রক্ত কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। যার প্রেক্ষিতে খুব দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। একটা কিছু করুন। আমি আর পারছি না। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মেয়ের বাবার কাতর আর্তনাদ। কোথাও রক্তের জোগাড় না হওয়ায় শেষ ভরসা হিসেবে থানার দারস্থ হন। সেই করুন আবেদনে কর্তব্যরত এ এএসআই রুদ্র প্রতাপ সিংহ বিষয়টি চন্দ্রপুর থানার ওসি অভিষেক ঘোষকে জানান। তিনিও এক মুহূর্ত দেরি না করেই থানার অন্যান্য আধিকারিক এবং পুলিশ কর্মীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটির রক্তের গ্রুপের সাথে কার রক্তের গ্রুপের মিল আছে তার সন্ধান করতে থাকেন। অবশেষে ও পজেটিভ রক্তের গ্রুপ মিলে যাই চন্দ্রপুর থানারই এ এস আই জয়ন্ত রায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে। এ এসআই জয়ন্ত রায় রাজি হয়ে যান ওই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটিকে রক্ত দেওয়ার জন্য। অবশেষে চন্দ্রপুর থানার ওসি অভিষেক ঘোষের নির্দেশ মতো এ এসআই জয়ন্ত রায় ও রুদ্র প্রতাপ সিং বাচ্চা মেয়েটি সহ তার বাবাকে নিয়ে গাড়ি করে তড়িঘড়ি চলে যান সিউড়ি সদর হাসপাতালে রক্ত দিতে। রক্ত পেয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়ে বৈশাখী বাগদী সুস্থতা অনুভব করেন। স্বভাবতই চন্দ্রপুর থানার ওসি অভিষেক ঘোষ, এ এস আই রক্তদাতা জয়ন্ত রায় এবং রুদ্র প্রতাপ সিংহ সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের তৎপরতার সাথে ফের একবার মানবিক মুখ দেখা যায়। পুলিশ যে মানুষের বন্ধু..সহযোগী এবং বিপদের সময়ে পাশে থাকার উপযুক্ত ভরসা সে কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চন্দ্রপুর থানা কে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বৈশাখী বাগদী,তার বাবা দীনবন্ধু বাগদী সহ পরিবারের লোকজন। স্বভাবতই চন্দ্রপুর থানার পুলিশের এই মানবিক মুখ যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছে এলাকায়।