
শম্ভুনাথ সেনঃ
২৩ মার্চ থেকে শুরু হল বীরভূমের দ্বিতীয় বৃহত্তম “পাথরচাপুড়ী মেলা-২০২৫”। আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা চলবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত। এবারও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের রোজা পরবের সময়ে এই মেলা শুরু হওয়ায় মেলা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশ কম। সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ৭ দিনের সম্প্রীতির এই মিলনমেলায় ইতিমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ। আলোকমালায় সেজে উঠেছে দাতাবাবার মাজার শরীফ। উল্লেখ্য, বীরভূমের সিউড়ি-রাজনগর রাস্তার উপর “পাথরচাপুড়ি গ্রাম”। আর এখানে রয়েছে “দাতা মেহবুব শাহ ওয়ালীর মাজার”। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি “দাতাবাবা” নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন সুফি সাধক। আজ থেকে ১৩৩ বছর পূর্বে ১২৯৮ বঙ্গাব্দের এমন এক ৯ চৈত্র এই সুফি সাধক দেহত্যাগ করেন। ওই দিনটিকে স্মরণীয় করতে তাঁর তিরোধান দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর পাথরচাপুড়ীতে অনুষ্ঠিত হয় “দাতাবাবার উরস মেলা”। ২৩ মার্চ দুপুরে পাথরচাপুড়ী মসজিদের ইমাম জনাব শওকত আলীর সভাপতিত্বে মোয়াজ্জেম কামালউদ্দিন সাহেবের কোরান পাঠ এবং বীরভূমের প্রিয়াঙ্কা সরকার খানের কন্ঠে লালন ফকিরের গানের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন এস আর ডি এর চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা সমাহর্তা বিধান রায়, সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের জেলা আধিকারিক সঞ্জীব টিকাদার, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, অতিরিক্ত জেলাশাসক বিশ্বজিৎ মোদক, বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী সহ জেলার বিভিন্ন আধিকারিক বৃন্দ। এছাড়া স্থানীয় বিডিও,প্রধান সহ বহু ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে মঞ্চ আলোকিত হয়। মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চের বিভিন্ন অতিথিরা দাতাবাবার মাজারে চাদর চড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষিকা ড. নিবেদিতা লাহিড়ী, আবৃত্তি শিল্পী বরুন দাস। উল্লেখ্য, এবারও রোজার মাসেই শুরু হয়েছে পাথরচাপুরি মেলা। সেই কারণেই উপস্থিতির সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তবে এদিন নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয় নামাজ। মেলার প্রথম দিনেই ছুটে এসেছেন দেশ-বিদেশের বহু পুণ্যার্থীরা। কেউবা তাঁবু খাটিয়ে কাটাবেন রাত। সরকারিভাবে জল ও শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার বিশাল এলাকা জুড়ে নানান পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। শুরু হয়েছে বিকি কিনি। মেলা চলবে আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত।
