
শম্ভুনাথ সেনঃ
নির্দিষ্ট সুচি অনুযায়ী আজ ২১ জুন তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো বীরভূমের বোলপুরে। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানা নিয়েই মূলত আলোচনা হয় কোর কমিটির বৈঠকে৷ উপস্থিত ছিলেন কাজল-কেষ্ট সহ ৯ সদস্য৷ পাশাপাশি, ফেসবুকে বিভাজনমূলক পোস্ট করলেই কড়া পদক্ষেপ নেবে দল, বৈঠক শেষে জানালেন আহ্বায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৈঠক শেষে বীরভূম সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “দল তো একটাই। সবাই এক সঙ্গে কাজ করা উচিত৷ এত বড় দলে মত বিরোধী হতেই পারে৷ তারজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন৷ ভোট এলে সবাই তৃণমূল। এটা আমি দেখেছি।”
এদিন বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে মধ্যমণি করেই অনুষ্ঠিত হয় তৃণমূল-কংগ্রেসের বীরভূম জেলা কোর কমিটির বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন ৯ জন কোর কমিটির সদস্যই। অনুব্রত মণ্ডল, বিধানসভার উপাধ্যক্ষ আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল সেখ, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ ওরফে রাণা সিংহ, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, তৃণমূল জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ সহ দুই আমন্ত্রিত সদস্য বীরভূম সাংসদ শতাব্দী রায়, বোলপুর সাংসদ অসিত মাল।
উল্লেখ্য,কাজল-কেষ্ট দ্বন্দ্ব মেটাতে সম্প্রতি কলকাতায় দুজনকে আলাদা করে নিয়ে বৈঠক করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি ও ফিরহাদ হাকিম৷ জানা গিয়েছে, সাংবাদিকদের সামনে একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বারন করা হয়েছে। পাশাপাশি, দলের যে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করবে বা সিদ্ধান্ত নেবে কোর কমিটিই৷ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই নির্দেশের পরেই আজ বোলপুর দলীয় কার্যালয়ে হল কোর কমিটির বৈঠক।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কোর কমিটির আহ্বায়ক আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৫ জুন বীরভূম জেলা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল৷ তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ আগামী ২৯ জুন হবে জেলা কমিটির বৈঠক। যা মূলত ২১ জুলাই কলকাতায় শহীদ স্মরণসভায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে৷ এছাড়া, ১২ জুলাই ফের কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে৷ বিভাজন মূলক পোস্ট করলে দল কড়া ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।” কোর কমিটির বৈঠক শেষে আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজল শেখ, শতাব্দী রায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেও এদিন কোনো মন্তব্য করতে চাননি অনুব্রত মণ্ডল।
