সিউড়ি তিলপাড়া ব্রিজের এক্সটেনশন ওয়াটার ডিভাইডার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে, প্রশাসনিক ভাবে এদিন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হল যান চলাচল

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

বীরভূমের গুরুত্বপূর্ণ তিলপাড়া ব্রিজ । যার ফাটল ঘিরে জেলা রাজনীতিতে সোরগোল হয়ে ওঠে। সেই ফাটল বৃহস্পতিবার আরো চওড়া হয়ে পড়েছে।একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে তিলপাড়া জলাধারের ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর গেটের এক্সটেনশন অংশের ওয়াটার ডিভাইডার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে।যানিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।উল্লেখ্য কিছুদিন আগেই প্রশাসনের তরফে ভারী যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে তখনও ছোট গাড়ি, বাইক ও সাইকেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এদিন বৃহস্পতিবার ব্রিজের কিছু অংশ ভেঙে পড়ায় আজ থেকে সেই চলাচলেও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল প্রশাসন।
সূত্রের খবর সেতুর মাটির ভিতরকার স্তর সরে গিয়ে ব্রিজের ফাউন্ডেশন দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ব্রিজের রেলিং সংলগ্ন জায়গায় নতুন করে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল ও পূর্ত দপ্তরের পরিদর্শনের পরই এদিন সকাল থেকে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে পুরো ব্রিজটি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকায় এখনই কোনও যান চলাচল শুরু করার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, দুবরাজপুর সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করতেন। ব্রিজ বন্ধ থাকায় তাঁদের বিকল্প রাস্তা হিসেবে সাঁইথিয়া দিয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ দুই-ই ব্যয় হচ্ছে বেশি। উপরন্তু জ্যামে আটকা পড়ছে। এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী হিসেবে পড়ুয়া, রোগী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সকলেই চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বহুবার তিলপাড়া ব্রিজের দুর্বলতা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও স্থায়ী মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সম্পূর্ণ ব্রিজই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিজেপি এই নিয়ে জেলা জুড়ে পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
তিলপাড়া ব্রিজের সমস্যা শাসক বিরোধী দলের কাছে আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বুধবার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল তিলপাড়া ব্রিজের ভগ্নদশা এলাকা পরিদর্শন করেন। নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এখন দেখার, সেতুতে ফাটলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কখন হয় এবং সাধারণ মানুষ আগের ন্যায় স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *