বীরভূমের তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে মাতারা কে ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়েই শুরু ‘নবান্ন উৎসব’

শম্ভুনাথ সেনঃ

কৃষিনির্ভর বীরভূমের তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে ৫ অগ্রহায়ণ তারামায়ের সামনে নতুন আতপ চালের ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে পালিত হয় “নবান্ন উৎসব”। মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবান্নের দিন নির্ধারিত হয়। এদিন মাতারা এখানে দেবী অন্নপূর্ণা। তারাপীঠ সন্নিহিত চণ্ডীপুর, কড়কড়িয়া, সাহাপুর, আটলা, সরলপুর ইত্যাদি গ্রামগুলিতেও নবান্ন উপলক্ষে প্রতিটি পরিবারে এসেছে আত্মীয়-স্বজন। তারাপীঠে কোনো দেবীমূর্তির পূজা হয় না। তাই এখানে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে দেব সেনাপতি “কার্তিক অর্চনা”! নবান্ন উৎসবকে ঘিরে তারাপীঠে সকাল থেকেই সমাগম হয়েছে বহু ভক্ত-পুণ্যার্থীর। নতুন ফসল ঘরে তোলার পর সেই আতপ চাল প্রথমে নিবেদন করা হয় মা তারাকে—এই রীতি শতাব্দী ধরে চলে আসছে। নবান্নই এখানে অন্যতম বড় উৎসব। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে কার্তিক অর্চনা। চার দিন ধরে চলবে উৎসবের আবহ। এদিন অত্যধিক ভিড়ের কারণে নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার পরেই ভক্তদের প্রবেশ করানো হয় মন্দির চত্বরে। আশপাশের বাজার ও রাস্তাজুড়ে ছিল উৎসবের রং। সারাদিন ধরে মায়ের আরাধনা, ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের ঢল—সব মিলিয়ে তারাপীঠে নবান্নের আনন্দে মাতোয়ারা এলাকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *