বীরভূমের লক্ষ্মীনারায়ণপুরে ৭ দিনের শ্রীমদ ভাগবত কথা মহোৎসব ও নরনারায়ণ সেবা

শম্ভুনাথ সেনঃ

বৃন্দাবন ধামের শ্রী গোবিন্দ বল্লভ শাস্ত্রীজীর মহৎ সংকল্পে বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের লক্ষ্মীনারায়ণপুরে পূর্বসূচী অনুযায়ী ৭ দিনের শ্রীমদ ভাগবত কথা মহোৎসব শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিনই ভাগবত পাঠের শেষে সকল নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন উদ্যোক্তাদের অন্যতম সুকান্ত গড়াই। গত ২৭ নভেম্বর সকালে মঙ্গল কলস যাত্রা এবং ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে মহোৎসবের সূচনা হয়। প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত শ্রী গোবিন্দ বল্লভ শাস্ত্রীজীর কন্ঠে চলছে ভাগবত পাঠ। ভাগবত কথা শ্রবণে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্ত শিষ্য। উল্লেখ্য, বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের এই লক্ষ্মীনারায়ণপুরে প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে “আনন্দ বৃন্দাবন বৃদ্ধাশ্রম”। সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ হবে “শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির। সেই উপলক্ষে গত ২০২৩ সালের ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর এলাকায় ভূমি পূজন ও দুই দিনব্যাপী ভাগবত পাঠের আয়োজন করা হয়। আর এবার এই বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী ভাগবত কথা মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের এক ভক্ত দিলীপ গড়াই এই সংস্থাকে ২২ বিঘা জমি দান করেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য অন্তত দেড় কোটি টাকা। সেই দানকৃত জায়গায় শ্রীগোবিন্দ বল্লভ শাস্ত্রীজী এবং তাঁর ট্রাস্ট এখানে গড়ে তুলেছেন বৃদ্ধাশ্রম। খুব শীঘ্রই নির্মাণ হবে শ্রীরাধা গোবিন্দ মন্দির। একথা নিজেই আজ অনুষ্ঠানের সূচনায় তিনি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, শ্রী ধাম বৃন্দাবন নিবাসী পরম পূজ্য প্রভুপাদ শ্রীগোবিন্দ বল্লভ শাস্ত্রীজীর দীর্ঘদিনের মহৎ সংকল্প বাংলার পূণ্য ভূমিতে বৃদ্ধাশ্রম এবং বৃহৎ মন্দির নির্মাণ প্রকল্প। সেকথা বছর তিনেক আগেই বীরভূমের রাজনগরের এক ভাগবত পাঠ অনুষ্ঠানেই ঘোষণা করেন তিনি। সেই ঘোষণা শুনে এগিয়ে আসেন লক্ষ্মীনারায়ণপুর নিবাসী দিলীপ গড়াই ও তাঁর পরিবার পরিজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ হয়েছে। বাউন্ডারি এলাকা ঘেরার কাজ চলছে পুরোদমে। সেই সঙ্গে এখানে মন্দির নির্মাণ হলে আমুল বদলে যাবে এই প্রত্যন্ত এলাকা। গড়ে উঠবে বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র। আর সেই আশাতে বুক বেঁধেছে স্থানীয় প্রতাপপুর, বৈদ্যনাথপুর, লোকপুর, রামপুর, পণ্ডিতপুর, দুবরাজপুর এলাকার পুণ্যার্থী মানুষজন। উল্লেখ্য, দুবরাজপুর রেলস্টেশন থেকে যার দূরত্ব হবে ১০ কিলোমিটার। অন্যদিকে সতীপীঠ বক্রেশ্বর ধাম থেকে দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। এবার এই ৭ দিনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকার মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। এলাকার যুব সমাজ উৎসবে মাতোয়ারা।শ্রী গোবিন্দ বল্লভ শাস্ত্রীজীর স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এসেছেন এলাকার উৎসাহী মানুষজন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে ৩ ডিসেম্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *