নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ
পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা রেশন ব্যবস্থায় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন রেশন কার্ডগুলিতে চাল ও গমের বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য রদবদল কার্যকর হবে। খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থায় চালের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে গমের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে, রাজ্য সরকারের নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাধীন রেশন কার্ডধারীদের জন্য নিয়মে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। অর্থাৎ RKSY-1 ও RKSY-2 কার্ডে আগের মতোই রেশন মিলবে।
কেন্দ্রীয় কার্ডে কী বদলাচ্ছে
নতুন নিয়ম অনুযায়ী অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY), প্রাইওরিটি হাউসহোল্ড (PHH) এবং স্পেশাল প্রাইওরিটি হাউসহোল্ড (SPHH)—এই তিন ধরনের কার্ডে খাদ্যশস্যের বরাদ্দে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
AAY কার্ডে পরিবার পিছু বরাদ্দে রদবদল
অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা কার্ডে বরাদ্দ দেওয়া হয় পরিবার পিছু। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে চাল কমিয়ে গমের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।
- চাল: ১৯ কেজি → ১৫ কেজি
- গম: ১৪ কেজি → ২০ কেজি
- আটা (গমের পরিবর্তে): ১৩ কেজি ৩০০ গ্রাম → ১৯ কেজি
PHH ও SPHH কার্ডে মাথাপিছু নতুন হিসাব
এই দুই কার্ডের ক্ষেত্রেও মাথাপিছু বরাদ্দে বড় পরিবর্তন এসেছে।
- চাল: ৩ কেজি → ২ কেজি
- গম: ২ কেজি → ৩ কেজি
- আটা (গমের বদলে): ১ কেজি ৯০০ গ্রাম → ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম
রাজ্য কার্ডে অপরিবর্তিত নিয়ম
রাজ্য সরকারের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাধীন কার্ডধারীদের জন্য কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
- RKSY-1: মাথাপিছু ৫ কেজি চাল — সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
- RKSY-2: মাথাপিছু ২ কেজি চাল — সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
এই দুটি কার্ডে গম বা আটা বরাদ্দ নেই, শুধুমাত্র চাল দেওয়া হয়।

আগামী বছরের শুরু থেকেই জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রেশন গ্রাহকদের খাদ্যশস্য বণ্টন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের খাদ্যদপ্তর আগের মতো বরাদ্দ চালু রাখার আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন বরাদ্দ কাঠামোই কার্যকর করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেশে গমের পর্যাপ্ত মজুত, রেশনে চালের পরিবর্তে গমের পরিমাণ বাড়ালে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি (PMGKAY)-এর আওতায় ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে সারা দেশে খাদ্যশস্যের সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। খাদ্য দফতরের দাবি, খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পরিবর্তন। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের আপত্তির নেপথ্যে রয়েছে বাস্তব অর্থনৈতিক যুক্তি। রেশন গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় চালের একটি বড় অংশ রাজ্যের চাষিদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান কিনে সংগ্রহ করা হয় এবং সেই ধান থেকেই চাল উৎপাদন করে রেশন ব্যবস্থায় সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় পুলের জন্যই রাজ্যকে আলাদাভাবে চাল মজুত রাখতে হয়। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পেও এই সেন্ট্রাল পুলের চাল ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রেশন ব্যবস্থায় চালের বরাদ্দ কমে গেলে সেন্ট্রাল পুলে চালের চাহিদা হ্রাস পাবে। এর ফলে রাজ্যের ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা শেষ পর্যন্ত চাষিদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এক নজরে নতুন নিয়ম
- ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পুরনো নিয়মই বহাল
- জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কেন্দ্রীয় কার্ডে নতুন বরাদ্দ
- চালের তুলনায় গমে জোর
- সব রেশন সামগ্রীই বিনামূল্যে
- রাজ্য সরকারি কার্ডে কোনও পরিবর্তন নয়
