
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমে মাঠে মাঠে ধান কাটার কাজ যখন চূড়ান্ত পর্বে তখন জেলার নানা প্রান্তে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ মেলা। আর সেই মেলাগুলি সমস্ত ক্লান্তি-কেদ দূর করে মিলিয়ে দেয় মাঠে-ময়দানের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের তাপ-উত্তাপ। বিনিময় হয় ভাব ও ভালোবাসার আদান-প্রদান।

শুরু হয় মানুষে-মানুষে মহামিলনের সুর বাঁধার পালা। আর সুর বাঁধার স্রষ্টা যখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তাই শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী “পৌষ মেলা” যেন বিশ্বমায়ের আঁচলপাতা। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই মেলার বয়স এবার ১৩১ বছর পূর্ণ হল।

১৩০১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ শান্তিনিকেতনে প্রথম পৌষ মেলা শুরু হয়। গতকালই রাত্রিতে পৌষ উৎসবের উদ্বোধন হয়। আর আজ ৭ পৌষ ছাতিম তলায় ব্রহ্ম উপাসনার মধ্যে দিয়ে পৌষ মেলার সূচনা হয়েছে। উদ্বোধন করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন জেলা সমাহর্তা ধবল জৈন, জেলা সভাধিপতি ফায়েজুল হক সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। সরকারিভাবে মেলা ৪ দিনের হলেও এবারও মেলা চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এবার স্টলের সংখ্যা অন্তত ১৮০০। মেলায় ২ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য শহরে লাগানো হয়েছে ড্রপ গেট। দূর-দূরান্ত থেকে অচেনা বাউল চেনা সুর নিয়ে হাজির হয়েছেন পৌষ মেলার বিনোদন মঞ্চে। মেলায় মূল মঞ্চের উদ্বোধনের পরে পরেই শুরু হয়ে যায় মেলার বিভিন্ন স্টলের উদ্বোধন।

উল্লেখ্য, বোলপুর শান্তিনিকেতনের এই পৌষ মেলার প্রধান আকর্ষণ বাউল গান। একতারা, দোতারা আর গাবগুবি নিয়ে বাউল শিল্পীরা মঞ্চে গেয়ে ওঠেন ভক্তি ও প্রেমের গান। এছাড়া রবীন্দ্রসঙ্গীত, সাঁওতাল নৃত্য এবং অন্যান্য লোক নৃত্যের পরিবেশনা মেলায় আগত পর্যটকদের মন ছুঁয়ে দেয়। মেলায় হস্তশিল্পের স্টলগুলিতে সেজে উঠেছে শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত বুটিক, চামড়ার ব্যাগ, টেরাকোটা, কাঠের কারুকাজ, কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করা শাড়ি অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পণ্য। গ্রামীণ শিল্পীরা তাদের সৃষ্টি নিয়ে মেলায় ভিড় জমিয়েছেন। বিকেলের দিকে মেলা দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

