শীত পড়তেই প্রাকৃতিক উষ্ণ জলে স্নানের আকর্ষণে সতীপীঠ বক্রেশ্বরে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

শম্ভুনাথ সেনঃ

পৌষ মাস ঢুকতেই সারা রাজ্যের সাথে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে বীরভূমে। শীতের দাপটে ঠাণ্ডায় জবুথবু রাঙ্গামাটির মানুষ। উত্তুরে হাওয়ার জেরে ঠাণ্ডা থাকবে আরও বেশ ক’দিন! এদিকে বক্রেশ্বরের প্রাকৃতিক গরম জলে স্নান করতে ইতিমধ্যেই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। পঞ্চপীঠের বীরভূমে অন্যতম সতীপীঠ দুবরাজপুর ব্লকের গোহালিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থিত “বক্রেশ্বর”। পীঠমালা মহাতন্ত্রের বর্ণনাতে বক্রেশ্বর ৫১ পীঠের ৪৬ তম সতীপীঠ হিসেবে উল্লিখিত। এখানে দেবী দুর্গার ভ্রু মধ্যস্থল পতিত হয়েছিল বলে আজও মানুষের বিশ্বাস। আর সেই ধর্মীয় টানে বছরভর হাজার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থী ছুটে আসেন এই সতীপীঠে।

বক্রেশ্বর মূলত ধর্মীয় শৈবক্ষেত্র ও সতীপীঠ হলেও মূল আকর্ষণ কিন্তু “উষ্ণ প্রস্রবণ”। যেখানে প্রকৃতি ও ধর্ম একসাথে মিলে মিশে একাকার। গরম জলপ্রপাত, শতাধিক মন্দির, আশ্রম আখড়া, বক্রেশ্বর নদীর গায়ে মহাশ্মশান এবং শান্ত পরিবেশ আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। অনন্তকাল ধরে মাটির গভীর থেকে অবিরাম উঠে আসা প্রাকৃতিক গরম জলে অবগাহনের (স্নান) ব্যবস্থা পশ্চিমবাংলায় আর কোথাও নেই। সানবাঁধানো ঘাটে ভূগর্ভস্থ উষ্ণ জলে স্নানের আনন্দই আলাদা। এই বক্রেশ্বরে বছরভর দেশ-বিদেশের পর্যটক-পুণ্যার্থীদের আনাগোনা। তবে গরম জলে স্নানের আকর্ষণে শীতকাল জুড়ে পর্যটক পুণ্যার্থীদের ভিড়। যাতায়াত ব্যবস্থায় সড়ক পথের তেমন উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বক্রেশ্বর সেতু। বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে কজওয়ে। অন্ততঃ ১২ কিমি দূরে রয়েছে নিকটবর্তী রেলস্টেশন “দুবরাজপুর”। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন রেলপথ যোগাযোগ। তাহলে এই বক্রেশ্বর আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হবে। সরকারি অর্থানুকূল্যে সঠিক পরিকল্পনায় বক্রেশ্বর পর্যটনক্ষেত্র আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠুক। কৃষি নির্ভর বীরভূমে পর্যটন শিল্পের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে জেলার অর্থনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *