বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি “জনগণমন” প্রথম গাওয়া হয় আজকের দিনে, ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর

শম্ভুনাথ সেনঃ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টি “জনগণমন অধিনায়ক জয় হে” গানটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল আজকের দিনে ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর। কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ২৬ তম বার্ষিক অধিবেশনে গানটি সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদ এই গানটির প্রথম স্তবককে ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি আমাদের জাতীয় সংগীত “জনগণমন অধিনায়ক জয় হে”। উল্লেখ্য, কবিগুরু ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে এই গানটি লিখেছিলেন। এবং ১৯১৯ সালে অন্ধপ্রদেশের একটি কলেজে অবস্থানকালে গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন যার শিরোনাম ছিল “Morning song of India”। আজ ২৭ ডিসেম্বর, ভারতের জাতীয় সংগীত “জনগণমন অধিনায়ক জয় হে” প্রথমবার জনসমক্ষে গাওয়ার ঐতিহাসিক দিন।
১১৪ বছর আগে আজকের দিনে প্রথম গাওয়া হয়েছিল এই গানটি। তখন অবশ্য পরাধীন ভারত। জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। তাই আজ ২৭ ডিসেম্বর ভারতের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯১১ সালের আজকের দিনেই কলকাতার পার্সি বাগান মাঠে (বর্তমানে যা টাউন হল বা কংগ্রেসের অধিবেশনস্থল হিসেবে পরিচিত) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ২৬ তম বার্ষিক অধিবেশনে প্রথমবার গাওয়া হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সৃষ্টি ‘জনগণমন’। তৎকালীন কংগ্রেস অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নি সরলা দেবী চৌধুরানী এবং একদল স্কুল শিক্ষার্থী। যদিও সেই সময় এটি কেবল একটি দলীয় সংগীত হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এর গভীর দেশপ্রেম ও ঐক্যের সুর পরবর্তীতে সমগ্র দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই গানটি জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উল্লেখ্য, এই গানটি পাঁচটি স্তবকের সমন্বয়ে গঠিত। যার মধ্যে প্রথম স্তবকটিই জাতীয় সংগীত হিসেবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়।
ভারতের জাতীয় সংগীত সময়সীমার নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ গানটি গাইতে সময় লাগে প্রায় ৫২ সেকেন্ড। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে এই গানটি জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া হয়। ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও অখণ্ডতার প্রতীক হিসেবে এই গানটি আজও প্রতিটি ভারতবাসীর হৃদয়ে দেশপ্রেমের সঞ্চার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *