
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং তারজন্য খরচ বাবদ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকার কর্তৃক গঠিত হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ সমিতি। সেই প্রেক্ষিতে ভিন রাজ্যে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে এরূপ পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে তথা মৃত্যু শ্রমিকের বাড়ি পৌঁছানোর তদবির করা সহ অন্যান্য কাজকর্ম করা হচ্ছে তৃণমূল দলীয় কর্মীদের পক্ষ থেকেও। এরূপ ঘটনার সাক্ষী খয়রাসোল ব্লকের তারাপুর গ্রামবাসী।
সেরূপ বীরভূমের খয়রাসোল ব্লকের নাকড়াকোন্দা অঞ্চলের তারাপুর গ্রামের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে ২৪ ডিসেম্বর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, তারাপুর গ্রামের ৪২ বছর বয়সী স্বপন বাগ্দী ওরফে মরাই বাগ্দী দিল্লি নীল কমল প্লাস্টিক কারখানায় কাজে যুক্ত ছিল দীর্ঘদিন। পড়শী সহ পার্শ্ববর্তী নাকড়াকোন্দা গ্রামে শ্বশুর বাড়ি সূত্রে যোগাযোগ করে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন একই কারখানায় শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত হয়েছিল। বাড়ি আসার পর দিন সাতেক আগে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যায়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা অনুভব করার ফলে সহকারীরা কম্বল, চাদর ঢাকা দেয়। কিছুটা সুস্থ হলেও সকালে দেখে মৃত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে। অনুমান করা হচ্ছে যে সম্ভবত স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির দেওয়া শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা নাকড়াকোন্দায় মৃত্যু সংবাদ আসে। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী তথা খয়রাসোল ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কোর কমিটির সদস্য কাঞ্চন দে দিল্লিতে কোম্পানি সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করে মৃতদেহ আনার উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার বিকেলে মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্স সহকারে নাকড়াকোন্দা ঠিকানায় পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে নাকড়াকোন্দা পঞ্চায়েতের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মৃতদেহটি তারাপুর গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেই সাথে মৃতব্যক্তির পরিবারটি কোম্পানি সহ সরকারি সুবিধা যেন পায় সেদিকটা নিশ্চিত করতে সমস্ত রকম সহযোগিতা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঞ্চন দে বলে গ্রামবাসীদের মুখে শোনা যায়। মৃতদেহ তারাপুর গ্রামে পৌঁছতেই স্থানীয় লোকজন ভিড় জমায়। মৃতব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন খয়রাসোল ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কোর কমিটির সদস্য উজ্জ্বল হক কাদেরী সহ অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ।
