ঐতিহ্যবাহী খাদ্য মেলা উৎসব ও বার্ষিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠান মহম্মদবাজার এলাকায়

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

সিঞ্চন এডুকেশন এন্ড রুরাল এন্টারপ্রেনিয়রশিপ ফাউন্ডেশন নামক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে ৩১জানুয়ারি শনিবার মহম্মদবাজার ব্লকের কাপিষ্টা পঞ্চায়েতের কদমপুর ফুটবল ময়দান ও প্রকৃতির আভা ওরগানিক ইনিটিয়েটিভ সংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী খাদ্য মেলা ও কৃষি প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্টলের টেবিলে রাখা নানান কৃষিজাত পণ্য সামগ্রী এবং অন্যদিকে লুপ্তপ্রায় বিভিন্ন ধরনের রান্নার বাহারে সুসজ্জিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে আদিবাসী নৃত্য, কচিকাঁচাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং বিষমুক্ত খাবার ও পুষ্টিকর শাকসবজি বিষয়ক নাটকের মাধ্যমে মেলাটি প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। সদ্য শেষ হওয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাদনা পরবের রেশ ধরেই মূলত এলাকার আদিবাসীদের নিয়ে ধামসা মাদল সহকারে নাচগানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার বিভিন্ন আদিবাসী সমাজের মুসতাগিরদেরও অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।

এখানে স্থানীয় এলাকার চাষীদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী দিয়ে স্টল সাজানো হয়। সাথে সাথেই আদিবাসীদের অন্যান্য খাবার গুলোর মধ্যে যেসব গুনাগুন রয়েছে সেধরনের খাদ্যগুলোও স্টলের মধ্যে স্থান পেয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্ত খাদ্যসামগ্রী খেতে অভ্যস্ত সেধরনের খাবারের স্টল এবং নিজেদের আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে ধামসা মাদলের তালে নৃত্য গানের অনুষ্ঠানে যোগদান করে যেন সেই বাদনা পরবে সামিল হওয়ার চিত্র লক্ষনীয়।

হারিয়ে যাওয়া খাদ্য দ্রব্য বিশেষ করে মোলের লাঠা, পাতপোড়া পিঠে, গুগলি, চ্যাঙ মাছের ঝোল, বিভিন্ন ধরনের শাক রান্না সহকারে শোভা পায় টেবিলে সাজানো অবস্থায়। এছাড়া কৃষি প্রদর্শনিতে অন্যান্য ফসলের মধ্যে কালো আলু সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং কৃষি প্রদর্শনিতে প্রথম পুরস্কার লাভ করে বলে জানা যায়। এছাড়াও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় স্থানাধিকারীদের হাতে পুরস্কার প্রদান করা হয় অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রভাসিনি মুর্মু , মহম্মদবাজার ব্লক সহ কৃষি আধিকারিক প্রিয়া ধাড়া, স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ, সিঞ্চন এডুকেশন এন্ড রুরাল এন্টারপ্রেনিয়রশিপ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর শুভজিৎ চক্রবর্তী, হিসাবরক্ষক আকাশ পাল, মনিটরিং অফিসার রাজীব ঘোষ, কর্মী রথীন সাহা, তীর্থ সূত্রধর সহ বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *