
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
শনিবার দুপুরে পার্ক সার্কাসে এক সভাগৃহে রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সভা বসে।সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পালের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিধানসভা এবং বিধানসভার বাইরে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে তাঁর কটুক্তি ও ‘কুরুচিকর’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতি অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছে। অন্যথায় তাঁকে বিধায়ক পদ থেকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিধায়িকার বক্তব্য মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানের প্রতি অবমাননাকর। অভিযোগ, তিনি বলেছেন মাদ্রাসা থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএএস-আইপিএস তৈরি হয় না, বরং অপরাধী তৈরি হয়—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক।
সংগঠনের দাবি, ‘রাজ্যে সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অর্থ বাস্তবে সম্পূর্ণ ব্যয় হয় না’। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে কেবল মুসলিম নয়, খ্রিষ্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধসহ অন্যান্য গোষ্ঠীও অন্তর্ভুক্ত—এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং শিক্ষকদের প্রায় ৪০ শতাংশ অমুসলিম বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে মাদ্রাসাকে একপাক্ষিকভাবে চিহ্নিত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মত সমিতির। উক্ত সংগঠনের তরফে আতিয়ার রহমান, সাইদুল ইসলাম প্রমুখ জানান, ”সংবিধানের মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী এই ধরনের মন্তব্য আইনসভাকে অসম্মানিত করে। তাই বিধায়িকাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, নচেৎ তাঁকে বরখাস্ত করার দাবি জানানো হবে”।
