পাচারের আগেই বস্তা ভর্তি বিস্ফোরক উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য নলহাটিতে, গ্রেপ্তার-১

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে অবৈধ বালি, কয়লা সহ বিষ্ফোরক দ্রব্য পাচারের রমরমা একপ্রকার বেড়েই চলেছে। ঝাড়খণ্ড থেকে রাজনগর হয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার উদ্দেশ্যে যাবার পথে অবৈধ কয়লা ভর্তি সাতটি ট্রাক আটক করেন সিউড়ি থানার আইসি। অন্যদিকে দুবরাজপুর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে অবৈধ বালি ভর্তি সাতটি ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে বলে খবর। এদিকে বীরভূম জেলা পুলিশের তৎপরতায় নলহাটি এলাকায় ফের বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায় নলহাটি থানার অন্তর্গত বানিওর পঞ্চায়েতের খাপুর ক্যানেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিষ্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিস্ফোরক পাচার আটকে দেয়। নির্বাচনের আগে জেলা পুলিশের বড়সড় সাফল্য বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বানিওর রাস্তায় খাপুর ক্যানেল সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ টহলদারির সময় একটি সন্দেহভাজন মোটরবাইক দেখতে পান। বাইকটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেটিকে দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় বাইকের পিছনে বাঁধা কম্বলের ভেতর থেকে একটি বড় বস্তা উদ্ধার হয়। বস্তাটি খুলতেই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। বস্তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫০০টি জিলেটিন স্টিক, আনুমানিক ৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হতেই সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত বাইক চালককে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই বিস্ফোরকসহ মোটরবাইকটি বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বিষ্ফোরক পাচারের অভিযোগে ধৃত ব্যক্তির নাম চাঁদু লেট। বাড়ি রামপুরহাট থানার রদিপুর গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি রামপুরহাট এলাকা থেকে নলহাটির পাথর শিল্পাঞ্চলের দিকে এই বিস্ফোরকগুলি পাচার করছিল।
পুলিশের অনুমান, পাথর খাদান ও শিল্পাঞ্চলে অবৈধভাবে বিস্ফোরক ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই পাচার চলছিল। তবে এর পেছনে কোনও বড়সড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশের তদন্তকারী দল। পুলিশের বিশেষ দলটি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা হচ্ছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরকগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় পাচার করা হচ্ছিল।
পুলিশ আধিকারিকদের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে সতর্কতা। তার মধ্যেই এই ধরনের বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জেলা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চলছে বাড়তি টহল, নজরদারি এবং তল্লাশি অভিযান। উল্লেখ্য, বিষ্ফোরক পাচার বীরভূমে এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক জায়গা থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তদের পুলিশ এখনও সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেনি বলে এলাকাবাসীদের বক্তব্য। ইতিপূর্বে বীরভূমের সালবাদরা পাথর শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। বিস্ফোরক উদ্ধার হলেও, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *