
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
মহামানব সৈয়দ শাহ আব্দুল্লাহ কেরমানীর মাজার শরীফ অবস্থিত বীরভূমের পাড়ুই থানার অধীন খুষ্টিগিরীতে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ৩০ শে মাঘ থেকে শুরু হয়েছে উরস মোবারক। চলবে ৪ ফাল্গুন তথা ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবছর ৪৭৯তম ঊরস মোবারক পালিত হচ্ছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব শান্তি কামনায় শুভ্র নিশান উত্তোলনের মাধ্যমে ঊরস মোবারকের শুভ সূচনা করা হয়। পরবর্তীতে কোরান তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, ফাতেহা পাঠ ও চাদর পোষী করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সারা রাত্রি ব্যাপী ধর্মীয় জলসায় পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ও ঝাড়খণ্ডের দুমকা ও দেওঘর জেলা থেকেও অজস্র পুণ্যার্থীদের সমাগম ঘটে।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মাজার শরীফ কমিটির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। শিবিরে অজস্র মানুষ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি উর্দু কাওয়ালীর মেহেফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ১৬ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদী গান ও ১৭ ফেব্রুয়ারি মানবধর্মী বাউল সংগীতের আয়োজন থাকবে বলে জানা গেছে। এই ঊরস উৎসব ও সম্প্রীতি মেলা মূলতঃ মহামানব কেরমানী বাবার স্মৃতি উৎসব। তাঁর আবির্ভাব ৮৫৪ বঙ্গাব্দে। তিনি বিশ্বনবীর ২৭তম বংশধর। তাঁর উর্দ্ধতন গুরু প্রসিদ্ধ সুফি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী। তিনি ছিলেন উদার, মানবপ্রেমিক। তাঁরই আদর্শের ধারা খুষ্টিগিরী দরগাহ শরীফে আজও বিদ্যমান। আজও এই দরগায় অজস্র মানুষের মনস্কামনা পূরণ হয়, বয়ে যায় হতাশ জীবনে নির্মল আনন্দস্রোত। একান্ত সাক্ষাৎকারে কথাগুলো ব্যক্ত করেন খুষ্টিগিরী দরগাহ শরীফের বর্তমান পীর হজরত সৈয়দ শাহ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান কেরমানী।

