সি. সুব্রামনিয়াম পুরস্কার পেলেন বীরভূমের সেখ রিয়াজউদ্দিন

শম্ভুনাথ সেন ও উত্তম মণ্ডলঃ

সাংবাদিক ভালো কাজের নিরীখে যখন কোনো সেরা সম্মান পান এবং তা জাতীয় স্তরে তখন সেই সাংবাদিকের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা অনেকখানি বেড়ে যায়। পাশাপাশি দায়িত্বও বেড়ে যায় সাংবাদিকের। তেমনি প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় প্রায় তিন দশকের নিরলস পরিশ্রম আর সততার স্বীকৃতি পেলেন নয়াপ্রজন্মের সাংবাদিক সেখ রিয়াজুদ্দিন। বাড়ি বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম “বুধপুর”। তৃণমূল স্তরে মানুষের উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে হেরিটেজ সেন্টারের জুনিপার সভাকক্ষে “ন্যাশনাল ফাউনণ্ডেশন অফ ইন্ডিয়া” (NFA) এর তরফে ২০২৫-২০২৬ বর্ষে ‘সি. সুব্রাহ্মনিয়াম পুরস্কার’ (C. Subramaniam Award) স্বরূপ স্মারক, শংসাপত্র এবং ১,০০,০০০ টাকার চেক তুলে দেন কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে বিমানে যাতায়াত ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন উদ্যোক্তারা। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ভারতে ১৫ জনকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। চলতি বর্ষে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র সেখ রিয়াজদ্দিনকেই এই সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিয়া (NFI) একটি স্বাধীন, বেসরকারি জনকল্যাণমুলক ট্রাস্ট। এই সম্মান মূলত সাংবাদিক এবং সমাজকর্মীদের উৎসাহিত করার জন্য দেওয়া হয়। ভারতের প্রাক্তন খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী এবং ‘সবুজ বিপ্লবের’ অন্যতম স্থপতি চিদাম্বরম সুব্রহ্মণ্যম-এর সম্মানে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও তিনি একজন বিশিষ্ট সরকারি ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পুরস্কারটি প্রবর্তন ও পরিচালনা করে এই বেসরকারি ফাউন্ডেশনটি।
বীরভূমের সেখ রিয়াজউদ্দিন চলতি বর্ষে সি. সুব্রামনিয়াম অ্যাওয়ার্ড ফর কমিউনিটি লিডারশিপ সম্মাননা (C. Subramaniam Award for Community Leadership) পেয়েছেন মূলত বীরভূমের গ্রামীণ এলাকায় সংখ্যালঘু এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের কাজের জন্য। তিনি সারা বীরভূম জুড়ে ব্যক্তিগত এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে ভূমিহীন মানুষ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে কাজ করছেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষজনদের আইনি সহায়তায় সাহায্য এবং সরকারি প্রকল্পের নানা সুবিধা সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তার দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত বলা যায় নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সেখ রিয়াজুদ্দিনের সমাজসেবা কার্যে পথচলা শুরু হয়। বীরভূমের এক প্রত্যন্ত গ্রামে একটি স্কুল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলে তিনি গ্রামের মানুষকে একত্রিত করেন। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে নিজের উদ্যোগ এবং গ্রামবাসীদের সহায়তা নিয়ে স্কুলটি পুনরায় গড়ে তোলেন। সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজ এবং পিছিয়ে পড়া আদিবাসী মানুষজন অজ্ঞতার কারণে যখন টিকাকরণে অনীহা তখন তিনি এগিয়ে এসেছেন। এলাকায় টিকাকরণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় রিয়াজুদ্দিন সমান সক্রিয়। এলাকার স্কুলগুলোতে ‘নিউট্রিশন গার্ডেন’ বা পুষ্টি বাগান তৈরির ফলে মিড-ডে মিলের জন্য টাটকা সবজি সরবরাহ সম্ভব হয়েছে। এইসব কারণেই কর্তৃপক্ষ সম্মানিত করেছেন বীরভূমি সন্তান রিয়াজউদ্দিনকে। যদিও এই সম্মান টেগোর সোসাইটির মত আরো অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং এলাকার মানুষের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *